নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মিশকাতুর রহমানের বিরুদ্ধে ঠিকাদার, ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার ও প্রকল্প সভাপতিদের কাছ থেকে কমিশন আদায় করার অভিযোগ উঠেছে।
বিষয়টি নজরে আসে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমানের। তার নির্দেশেই সোমবার (৫ জানুয়ারি) থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে।
ইতিপূর্বে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে তার বিরুদ্ধে তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হয়। গত ২২ ডিসেম্বর এর পরিপ্রেক্ষিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর (প্রশাসন-১) শাখা অভিযোগ তদন্তর নির্দেশ দেয়া হয়। তদন্তের দায়িত্ব পান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ত্রাণ-১) মোহাম্মদ সানোয়ার হোসেন। তিনি (৫ জানুয়ারী) সোমবার বেলা ১২টায় সোনাইমুড়ী উপজেলার বিভিন্ন ঠিকাদারদের বক্তব্য ও আনিত অভিযোগ তদন্ত করেন।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় “টিআর-কাবিখার আড়াই কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ” ও ২০২৫ সালের ৬ জানুয়ারি “সোনাইমুড়ীতে সড়কের সলিং না করেই টাকা আত্মসাৎ” শিরোনামে পিআইও মিশকাতুর রহমানের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সে সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক তদন্ত কমিটি করে। তদন্ত করার পর বিষয়টি অদৃশ্য ইশারায় ধামাচাপা পড়ে যায়।
সোনাইমুড়ী উপজেলা পরিষদের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান, পিআইও মিশকাতুর রহমানের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে এলাকাবাসী উপজেলা পরিষদের ভিতরে দেওয়ালে ও মসজিদের দেওয়ালে দুর্নীতিবাজ আখ্যা দিয়ে লিফলেট ঝালিয়ে দেয়। এরপরও তার অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ হয়নি। আরো দিন দিন বেড়েছে। তিনি নোয়াখালী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এবং দুর্যোগ অধিদপ্তরে নির্দিষ্ট অংকের টাকা দিয়ে এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি করে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
জানা যায়, পিআইও মিশকাতুর রহমান ২০২৩ সালের ১২ ডিসেম্বর একই কর্মস্থলে বহাল থাকায় তার বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি, অনিয়ম ও সিন্ডিকেট বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা তাকে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির মাস্টারমাইন্ড হিসাবে জানেন। তার বিরুদ্ধে অনিম ও দুর্নীতির দায়ে বারবার তদন্ত হলেও সে অদৃশ্য ইশারায় এখানে রয়ে যায়। সে এখানে যোগদানের পর থেকেই পিআইও অফিসে দুর্নীতির মহোৎসব শুরু হয়। নামসর্বস্ব মসজিদ, মাদ্রাসা, মাজার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়। তার বিরুদ্ধে প্রতিটি প্রকল্পের বিপরীতে ২৫ শতাংশ নগদ টাকা ঘুষ আদায়সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
আরও জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভুক্তভোগীদের কমিশন লেনদেনের অডিও রেকর্ড ইতিপূর্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বিগত ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরে ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পে একটি ব্রিজ সাবেক কাউন্সিলর তাজুল ইসলামের বাড়ির সামনে নির্মাণের জন্য বরাদ্দ হয়। ব্রিজটি একক বাড়ির সামনে বরাদ্দ হওয়ায় বিভিন্ন পত্রিকায় লেখালেখি হয়। তৎকালীন এ প্রকল্পের পিডি এলাকায় এসে তদন্ত করে ব্রিজটি বাতিল করেন। ব্রিজটি পুনরায় বরাদ্দ পাইয়ে দিতে সোনাইমুড়ীর পিআইও ওই ব্যক্তির কাছ থেকে ২ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরে তিনি ২ ভাগে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নেন। কিন্তু এখনো এ টাকা ফেরৎ পায়নি ভুক্তভোগী তাজুল ইসলাম। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন নোয়াখালী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কাছে সোনাইমুড়ী পৌরসভা ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও মকবুল আহমদের পুত্র তাজুল ইসলাম।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ত্রাণ-১) মোহাম্মদ সানোয়ার হোসেন বলেন, “প্রাথমিক তদন্ত করেছেন। প্রকল্প এলাকায় গিয়ে পরিদর্শন করে অতি শীঘ্রই প্রতিবেদন দাখিল করবেন।”
কেকে/এজে