চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার চারটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উন্নয়নকাজ দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ। ‘গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-৩ (আইআরআইডিপি-৩)’–এর আওতায় নির্মাণাধীন এসব সড়কের কোথাও ছয় মাস, কোথাও প্রায় দুই বছর ধরে মেকাডাম করে কাজ ফেলে রাখা হয়েছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ধুলাবালি, বর্ষায় কাদা, দুর্ঘটনার ঝুঁকি এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতে দুর্ভোগ নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় চারটি প্রকল্পই বাতিলের সুপারিশ করেছে উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়।
সম্প্রতি সরেজমিনে উপজেলার বখতপুর-সোনাগাজী সড়ক, ঈছাপুর ভিলেজ সড়ক, বখতপুর-ধর্মপুর পিএনজি সড়ক এবং খিরাম হচ্চারঘাট সড়ক ঘুরে দেখা যায়, কোথাও খোয়া ফেলে রাখা হয়েছে, কোথাও মেকাডাম করেই কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। অনেক স্থানে সড়ক অসমান হয়ে পড়েছে। শুকনো মৌসুমে ধুলাবালির কারণে পথচারী, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা দুর্ভোগে পড়ছেন। বৃষ্টি হলে কাদার কারণে যানবাহন চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ে।
উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ৫৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের বখতপুর-সোনাগাজী সড়কের উন্নয়নকাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৮ লাখ ৬ হাজার টাকা। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া প্রকল্পটির দায়িত্বে রয়েছে লিজা টিম্বার। এখন পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি মাত্র ৪০ শতাংশ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ১৬ লাখ ৩৮ হাজার টাকা উত্তোলন করলেও প্রায় ছয় মাস ধরে সড়কটি মেকাডাম করে ফেলে রেখেছে। এ কারণে প্রকল্পটি বাতিলের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লিজা টিম্বারের স্বত্বাধিকারী মো. মহিনউদ্দিন দাবি করেন, ইতোমধ্যে পুনরায় কাজ শুরু হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে সড়কটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
অন্যদিকে, ক্রিয়েটিভ এন্টারপ্রাইজ বাস্তবায়ন করছে ঈছাপুর ভিলেজ সড়ক, বখতপুর-ধর্মপুর পিএনজি সড়ক এবং খিরাম হচ্চারঘাট সড়কের উন্নয়নকাজ। ২০২৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এসব প্রকল্পের কাজ প্রায় দুই বছরেও শেষ হয়নি।
এর মধ্যে ঈছাপুর ভিলেজ সড়কের ব্যয় ৫৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকা, অগ্রগতি ৬০ শতাংশ। বখতপুর-ধর্মপুর পিএনজি সড়কের ব্যয় ৬৩ লাখ ৬৯ হাজার টাকা, অগ্রগতি ৫৫ শতাংশ। খিরাম হচ্চারঘাট সড়কের ব্যয় ৫৬ লাখ ১২ হাজার টাকা, অগ্রগতি ৫৫ শতাংশ। তিনটি প্রকল্পের বিপরীতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোট ৫৫ লাখ ৩১ হাজার টাকা উত্তোলন করেছে। উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় তিনটি প্রকল্পই বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কগুলো খুঁড়ে বা মেকাডাম করে ফেলে রাখায় প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শিক্ষার্থী, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, কৃষিপণ্যবাহী যান ও সাধারণ যাত্রীদের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ধুলাবালি ও কাদার কারণে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটছে।
ভুক্তভোগী মো. আইয়ুব বলেন, ‘কোথাও ছয় মাস, কোথাও দুই বছর ধরে রাস্তা এভাবে পড়ে আছে। ধুলাবালির কারণে বসবাস ও ব্যবসা করা কঠিন হয়ে গেছে। বর্ষা এলে কাদা ও জলাবদ্ধতায় চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। দ্রুত কাজ শেষ না হলে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।’
ক্রিয়েটিভ এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক মো. কলিম উদ্দিন বলেন, ‘সরকারি দাপ্তরিক কিছু জটিলতার পাশাপাশি নির্মাণসামগ্রীর দাম প্রকল্প প্রণয়নের সময়ের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। এ কারণে কাজ শেষ করতে বিলম্ব হয়েছে। বর্ষা শেষে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করব।’
উপজেলা প্রকৌশলী মো. জুনায়েদ আবছার চৌধুরী বলেন, ‘দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় চারটি প্রকল্প বাতিলের জন্য জেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলীর অনুমোদনের পর প্রকল্পগুলো বাতিল করে নতুন করে দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু হবে।’
কেকে/এলএ