শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার স্বপ্নের পথে বাধা হতে পারেনি। প্রতিকূলতা জয় করে নিজের মেধা, যোগ্যতা ও আত্মবিশ্বাসের জোরে নতুন কর্মজীবনে যাত্রা শুরু করলেন নীলফামারীর বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যুবক একলাস মিয়া। তিনি নীলসাগর গ্রুপের কনজিউমার সেকশনে স্টোর অফিসার পদে নিয়োগ পেয়েছেন।
নীলসাগর গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আহসান হাবীব লেলীনের উদ্যোগে একলাস মিয়াকে এ নিয়োগ দেওয়া হয়।
নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নীলসাগর গ্রুপের হেড অব কনজিউমার মো. আহসান হাবীব বিপ্লব, ব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ ও প্রশাসন) মো. নূর-এ-আলম ছিদ্দিক, নীলসাগর স্পাইস প্রজেক্টের ইনচার্জ মো. আওরঙ্গজেব সুজন, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অমিত কুমার চাকীসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
চাকরি পাওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে একলাস মিয়া জানান, শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে কর্মজীবনে প্রবেশ করতে গিয়ে তাকে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। অনেক সময় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সুযোগ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে নীলসাগর গ্রুপ তার ওপর আস্থা রেখে কাজের সুযোগ দেওয়ায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।
এ সময় দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জন্য একটি কর্মসংস্থানের সুযোগ শুধু চাকরি নয়, এটি আত্মনির্ভরশীল জীবন গড়ার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তারা পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি সমাজে মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপনের সুযোগ পান।
তাদের মতে, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কখনোই একজন মানুষের মেধা, দক্ষতা কিংবা কর্মক্ষমতার মাপকাঠি হতে পারে না। প্রয়োজন শুধু উপযুক্ত সুযোগ, আস্থা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিবেশ। এ ধরনের উদ্যোগ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের কর্মজীবনে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে এবং সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
একলাস মিয়ার এই নতুন কর্মজীবন শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়, বরং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন অসংখ্য মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। এটি প্রমাণ করে, সুযোগ পেলে প্রতিবন্ধকতা নয়, যোগ্যতাই মানুষের প্রকৃত পরিচয়।
কেকে/ এমএস