জীবনের এক গভীর আত্মিক অনুসন্ধান থেকে ইসলামের পথে ফিরে এলেন নোয়াখালীর হাতিয়ার সোনাদিয়া বাংলাবাজার এলাকার হৃদয় চন্দ্র দাস। ইউটিউবে বিভিন্ন আলেমের ওয়াজ ও ইসলামী বক্তব্য শুনে ধীরে ধীরে ইসলামের প্রতি অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে পবিত্র ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাতে উপজেলা সদরের এডভোকেট ফজলে আজিম তুহিনের চেম্বারে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন তিনি। ইসলাম গ্রহণের পর তার নতুন নাম রাখা হয় মোঃ আব্দুল্লাহ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে হৃদয় চন্দ্র দাস ইউটিউবে ইসলামি ওয়াজ, কোরআনের তাফসির ও নবীজির (সা.) জীবন কথা শুনতেন। এসব ওয়াজ ও বক্তব্য তার মনে গভীর প্রভাব ফেলে। ইসলামের শান্তি, শৃঙ্খলা ও মানবিক জীবনব্যবস্থা তাকে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়। একপর্যায়ে আত্মিক প্রশান্তির খোঁজে তিনি নিজ সিদ্ধান্তে ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন।
ধর্মান্তরের পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয় আইনানুগভাবে। এ উপলক্ষে প্রয়োজনীয় হলফনামা ও নোটারি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। পরে স্থানীয় মুসল্লি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তিনি কালেমা পাঠের মাধ্যমে ইসলাম গ্রহণ করেন। এ সময় এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। উপস্থিত মুসল্লিরা নবাগত মুসলমান ভাইকে আলিঙ্গন করেন এবং তার জন্য দোয়া করেন।
নওমুসলিম মোহাম্মদ আব্দুল্যাহ (২৭) উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গৌরাঙ্গ বাবুর বাড়ির জগন্নাথ চন্দ্র দাসের ছেলে। সে পেশায় একজন পল্লী চিকিৎসক। তার পরিবারে বাবা-মা স্ত্রীসহ দুই সন্তান রয়েছে।
উপস্থিত স্থানীয় আলেমগণ বলেন, ‘আল্লাহতায়ালা যাকে হেদায়েত দিতে চান, তার জন্য নানা পথ খুলে দেন, ইউটিউবের ওয়াজ তারই একটি মাধ্যম। নবাগত মুসলমান ভাইয়ের ঈমান দৃঢ় হোক, তার নতুন জীবন হোক ইসলামের আলোয় আলোকিত।’
ইসলাম গ্রহণের পর অনুভূতির কথা জানিয়ে মোঃ আব্দুল্লাহ বলেন, ‘ওয়াজ শুনতে শুনতে আমার ভেতরে এক ধরনের আলো কাজ করতে শুরু করে। আজ মনে হচ্ছে আমি সঠিক পথ খুঁজে পেয়েছি। মনে এক অদ্ভুত শান্তি অনুভব করছি। আমার পরিবারের সবাইকে ইসলামের ছায়াতলে আসার দাওয়াত দেব।’
এডভোকেট ফজলে আজিম তুহিন বলেন, ‘স্থানীয় কয়েকজন ইমাম এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ আমার চেম্বারে আসেন। হৃদয় চন্দ্র দাসের ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি অবগত করেন। আমি যথাযথ নিয়ম মেনে কোট এফিডেভিটের মাধ্যমে তার সকল কাগজপত্রের কাজ সম্পর্ণ করেছি।’
কেকে/বি