এখন থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ভেনেজুয়েলার তেল উত্তোলন ও বিক্রয় সংক্রান্ত সার্বিক ব্যবস্থাপনা যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসের উচ্চভবন সিনেটে ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।
ব্রিফিংয়ে মার্কো রুবিও বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার তেল খাত বিশৃঙ্খলার দিকে ঝুঁকে পড়ুক— এমনটা আমরা চাই না। এ কারণে দেশটির তেল উত্তোলন, বিপননসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা এখন থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকবে।’
‘যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেল খাতকে ‘ঢেলে সাজানোর’ উদ্যোগ নিয়েছে। এটি হলো ভেনেজুয়েলার তেল খাত সংস্কারের ‘প্রথম পর্যায়’। তাই এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ও সরকারের অনুমোদিত সংস্থা বা কোম্পানি ছাড়া আর কাউকে এই খাতে ঢুকতে দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, ‘তেল খাত সংস্কারের কাজ শেষে দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হবে। এই পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা কোম্পানিকে ন্যায্যভাবে ভেনেজুয়েলার বাজারে ঢুকতে দেওয়া হবে।’
এর আগে, গত মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘ভেনেজুয়েলা থেকে সাগরপথে তেল যুক্তরাষ্ট্রে আনা হবে এবং সেখান থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছাবে দেশটির তেল।’
উল্লেখ্য, দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের অন্তর্ভুক্ত ভেনেজুয়েলা বিশ্বের সবচেয়ে তেলসমৃদ্ধ দেশ। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য বিষয়ক কর্তৃপক্ষ সংস্থা ইউএস অ্যানার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) তথ্যানুসারে, ভেনেজুয়েলার খনিগুলোতে মজুত আছে কমপক্ষে ৩০ হাজার ৩০০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল। বিশ্বের খনিগুলোতে মোট যত তেল মজুত আছে, তার এক পঞ্চমাংশই আছে ভেনেজুয়েলায়।
তবে এত বড় মজুত থাকা সত্ত্বেও দেশটির দৈনিক তেলের উৎপাদন খুবই কম। প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১০ লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলন করে ভেনেজুয়েলা। আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে প্রতিদিন যে পরিমাণ অপরিশোধিত তেল সরবরাহ আসে, তার মাত্র দশমিক ৮ শতাংশ আসে ভেনেজুয়েলা থেকে।
ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেলের গঠন ভারী ও ঘন। এই তেল উত্তোলন ও পরিশোধনের ক্ষেত্রে অন্যান্য তেলের তুলনায় বেশি যত্নশীল হতে হয়।
তবে এ ধরনের তেল পরিশোধনের মাধ্যমে উৎকৃষ্টমানের ডিজেল, অ্যাসফল্ট, কারখানায় ব্যবহারের উপযোগী জ্বালানি, অন্যান্য ভারী যন্ত্রপাতিতে ব্যবহারের উপযোগী জ্বালানিসহ আরও বহু ধরনের জ্বলানিপণ্য তৈরি করা সম্ভব।
গেল শনিবার (৩ ডিসেম্বর) শেষ রাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন অ্যাবস্যালুট ডিজল্ভ’ চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তুলে নিয়ে আসে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর অভিযাত শাখা ডেল্টা ফোর্স। এ সময় মার্কিন সেনাদের বাধা দিতে গিয়ে নিহত হন ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনী প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য।
প্রেসিডেন্ট মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ফেডারেল কারাগারে রাখা হয়েছে। তাদের উভয়ের বিরুদ্ধে মাদক সন্ত্রাস, মাদক পাচার ও অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগ এনেছে মার্কিন প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে এসব অভিযোগের বিচার হবে।
সূত্র : এএফপি
কেকে/এমএ