মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
ইচ্ছেডানা
ছোটদের সুকুমার বড়ুয়া
জাকির সেতু
প্রকাশ: শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:০৮ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

প্রতিদিন সন্ধ্যার পরে জুনায়েদ ও জুরাইন তাদের দাদুর কাছে গল্প শুনত। গল্প শুনতে তাদের খুব ভালো লাগত। দুই ভাই একই ক্লাসে পড়াশোনা করত।

একদিন সন্ধ্যায় জুনায়েদ একটি ছড়া পড়ছিল

ধন্য সবাই ধন্য,
অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে
মাতৃভূমির জন্য।

দাদু জিজ্ঞেস করলেন, এ কবিতাটি কে লিখেছে, বলতে পারবে? জুনায়েদ বলল দাদুভাই, আমি পুরো কবিতাটাই পারি। এ কবিতাটি লিখেছেন সুকুমার বড়ুয়া। শুনে দাদু খুশি হলেন। ঝাপসা চশমা মুছতে মুছতে বললেন, তার জীবনী কতটুকু জান দাদুভাই?

জুনায়েদ বলল দাদুভাই, আমি কয়েকদিন আগে উনার জীবনী আর ছড়া মুখস্থ করেছি। আমি সুকুমার বড়ুয়ার জন্মসাল আর জীবনবৃত্তান্ত বলতে পারব। ইতোমধ্যে জুরাইন পাশে এসে বসল। সে মনোযোগ দিয়ে তার ভাইয়ের কথা শুনতে লাগল।

জুনায়েদ বলতে শুরু করল দাদুভাই আমাদের কবি সুকুমার বড়ুয়ার জন্ম ১৯৩৮ সালের ৫  জানুয়ারি। তিনি চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার বিনাজুরি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। অনেক কষ্ট ও দারিদ্র্যের মধ্যে তার জীবন কেটেছে। তাকে ছড়ারাজ, ছড়াশিল্পী ও ছড়াসম্রাট নামে অভিহিত করা হয়।

সুকুমার বড়ুয়ার ছড়ায় হাস্যরস, নৈতিক শিক্ষা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সামাজিক বিষয় খুব সুন্দরভাবে ফুটে ওঠে। তার প্রতিটি ছড়া আমি পড়েছি, দাদুভাই। 
তার কয়েকটি বিখ্যাত ছড়ার বই হলো

পাগলা ঘোড়া, ভিজে বিড়াল, চন্দনা রঞ্জনার ছড়া এলোপাতাড়ি, নানা রঙের দিন, চিচিং ফাঁক, কিছু না কিছু, প্রিয় ছড়া শতক, নদীর খেলা, যুক্তবর্ণ, চন্দনার পাঠশালা, জীবনের ভিতরে বাইরে, মজার পাড়া ১০০ ছড়া ইত্যাদি।

দাদু মুখ তুলে তাকালেন। চোখে হাসি নিয়ে বললেন,

বাহ দাদুভাই, তুমি খুব সুন্দর বলেছ। এই ছোট্ট বয়সেই তুমি সুকুমার বড়ুয়া সম্পর্কে অনেক কিছু জেনেছ।

এবার জুনায়েদ জুরাইনের দিকে তাকিয়ে বলল,

এবার তুই বল। দাদুভাইকে সুকুমার বড়ুয়া আর তার ছড়া সম্পর্কে কিছু।

জুরাইন বলল, আমি তার একটি ছড়া বলব। আমার খুব পড়তে ভালো লাগে, বারবার পড়তে ইচ্ছে করে

এমন যদি হতো ইচ্ছে হলে
আমি হতাম প্রজাপতির মতো।
এই ছড়াটি আমি মুখস্থ করেছি। আরেকটি ছড়াও বলব
খুকি যায় যেদিকে
চাঁদ যায় সেদিকে,
খুকি হাসে খিলখিল
দুই চাঁদে ভারি মিল।

জুরাইনের সুন্দর আবৃত্তিতে দাদু খুব মুগ্ধ হলেন। তিনি দুজনকে বললেন তোমরা খুব সুন্দর বলেছ দাদুভাই।

তারপর প্রশ্ন করলেন সুকুমার বড়ুয়া সম্পর্কে এত কিছু তোমরা কীভাবে জানলে?
জুনায়েদ বলল বাবা আমাকে সুকুমার বড়ুয়ার ছড়ার বই কিনে দিয়েছে। আর ‘ছড়া মুক্তিসেনা’ আমরা পাঠ্যবইয়েও পড়েছি।

এই বলে জুনায়েদ পড়ার টেবিল থেকে সুকুমার বড়ুয়ার ছড়ার বইগুলো নিয়ে এল। দাদু বইগুলো হাতে নিয়ে পরম মমতায় দেখলেন। হঠাৎ একটি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন সুকুমার বড়ুয়া মারা গেছেন গতকাল দাদুভাই। শুনে জুনায়েদ ও জুরাইন বলল,

দাদুভাই, আমরা শুনেছি সাহিত্যিক আর কবিরা কখনো মারা যান না। তাদের সৃষ্টিকর্ম চিরকাল বেঁচে থাকে। দাদু দুজনকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন
তোমরা বড় হও। আমি চাই, সুকুমার বড়ুয়ার মতো একজন ছড়াকার হয়ে তোমরা চিরকাল বেঁচে থাক।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close