শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬,
১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● আখতারুজ্জামানকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর      ● মারা গেছেন বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী      ● দেশে ডেঙ্গুতে ৯ মাসে প্রাণ গেছে ২৫০ জনের      ● হামে ২৪ ঘণ্টায় চারজনের মৃত্যু      ● ময়মনসিংহে বাসচাপায় অটোরিকশার ৭ যাত্রী নিহত      ● সেপ্টেম্বরে ৩ শতাংশ বাড়ল রেমিট্যান্স      ● সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের ৪ মদের গুদাম সিলগালা      
ইচ্ছেডানা
হুদাই নদীর রহস্য
আব্দুল কাদের
প্রকাশ: রোববার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩৪ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

এক রাজ্যে অনেক পরীর বাস ছিল, কিন্তু তাদের কারও পিঠে ডানা ছিল না। সেই রাজ্যের রাজা ছিলেন যেমন দয়ালু, তেমনি শৌখিন। তার মনে চিরদিনের এক সুপ্ত বাসনা ছিল যে তিনি নিজের চোখে ডানাওয়ালা পরী দেখবেন। উজির বাহলুল শেখ একদিন রাজাকে বললেন, “মহারাজ, ঝমঝম নগরের পাহাড়ের নিচে ‘হুদাই নদী’ নামে এক জাদুকরী নদী আছে। সেখানেই কেবল দেখা মেলে সত্যিকারের ডানাওয়ালা পরীদের।”

রাজা আর দেরি করলেন না। তিনি সেনাপ্রধান আজগর আলী ডেকে নির্দেশ দিলেন যে সৈন্য সামন্ত নিয়ে সমুদ্র পথে প্রস্তুত রাখতে। তার নির্দেশ সেনাপ্রধান আজগর আলী বিশাল এক নৌকায় এক মাসের খাবার ও সুপ্রিয় জল মজুত করে তিনি সৈন্যসামন্ত নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন। 

সমুদ্রপথে দুদিন চলার পর তারা দক্ষিণ দিকে একটি শান্ত নদীর দেখা পেলেন। সেই নদী ধরে নৌকা যখন সামনে এগোতে লাগল, দুপাশে দেখা গেল কেবল মাইলের পর মাইল ধু-ধু বালুচর। জনমানবহীন সেই তপ্ত বালুচরে কোনো সবুজের চিহ্ন ছিল না। টানা সাত দিন এভাবে চলার পর মজুত করা শুকনো খাবারে সবার অরুচি চলে এল। টাটকা খাবারের খোঁজে রাজা তখন তীরের এক গহিন বনে নৌকা ভেড়ানোর নির্দেশ দিলেন।

বনে পা রাখতেই চারপাশ থেকে হিংস্র জানোয়ারের গর্জন শোনা গেল। সৈন্যরা ভয়ে তলোয়ার বের করলে রাজা তাদের বাধা দিয়ে এক চমৎকার কৌশল অবলম্বন করলেন। তিনি বললেন, “আমরা এই বনের অতিথি। পশুপাখিকে ভয় দেখিয়ে নয়, বরং ভালোবেসে আমাদের পথ খুঁজে নিতে হবে।”

রাজা শান্তভাবে বনের গভীরে ঢুকলেন। একটি বড় জানোয়ার পথ আগলে দাঁড়ালে রাজা ভয় না পেয়ে তার দিকে কিছু ফল ও খাবার এগিয়ে দিলেন। রাজার এই মমতা দেখে বনের পশুরা শান্ত হয়ে গেল। বনের পাখিরা যখন বুঝতে পারল এই মানুষগুলো তাদের শত্রু নয়, তখন তারা কিচিরমিচির শব্দে রাজাকে বনের গোপন পথ দেখিয়ে নিয়ে চলল। সৈন্যরা অবাক হয়ে দেখল অস্ত্রের চেয়েও ভালোবাসার শক্তি কত বেশি!

বনের শেষ প্রান্তে পৌঁছাতেই শোনা গেল জলের কলকল শব্দ। সেখানে পাহাড়ের গা বেয়ে স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ জল মিশেছে হুদাই নদীতে। হঠাৎ রাজা দেখলেন সেই আজন্ম লালিত দৃশ্য! একদল ডানাওয়ালা পরী নদীর তীরে খেলা করছে। তাদের ডানায় রোদের আলো পড়ে সাতরঙা রামধনুর মতো ঝিলিক দিচ্ছে।

পরীদের রানী রাজার সামনে এসে বললেন, “হে মহান রাজা, আপনার ধৈর্য এবং বনের প্রাণীদের প্রতি আপনার মায়া আমাদের মুগ্ধ করেছে। যারা প্রকৃতিকে ভালোবাসতে জানে, সৌন্দর্য কেবল তাদের চোখেই ধরা দেয়।” পরীরা রাজাকে মনভরে আপ্যায়ন করল এবং রাজার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন সার্থক হলো।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close