মার্কিন অভিযানে নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের ইঙ্গিত দিয়েছে ভেনেজুয়েলা। দেশটির সরকার জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ফেরাতে একটি ‘অনুসন্ধানমূলক প্রক্রিয়া’ শুরু করা হয়েছে।
এরই মধ্যে ক্যারিবিয়ান সাগরে ভেনেজুয়েলার সাথে সংশ্লিষ্ট পঞ্চম তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্লেষকদের মতে, তেলকে কেন্দ্র করেই এখন নতুন করে সাজানো হচ্ছে ওয়াশিংটন-কারাকাস সম্পর্ক।
কয়েক মাসের হুমকি-ধামকির অবশেষে গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) গভীর রাতে ভেনিজুয়েলায় আক্রমণ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। রাজধানী কারাকাস ছাড়াও কয়েক শহরে যুদ্ধবিমান থেকে বোমা বর্ষণ করে এবং মাদুরো ও তার স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যায়।
এর মধ্যে ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন,
এখন থেকে ভেনিজুয়েলা চালাবে আমেরিকা। সেই সাথে এর তেলভাণ্ডারের ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব ঘোষণা করেন।
এদিকে, মাদুরোর অপহরণের পর ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। তাকে সমর্থন দিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, ‘রদ্রিগেজ যতক্ষণ পর্যন্ত ওয়াশিংটনকে তার দেশের তেলের নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে দেশ শাসন করতে দেবেন।’
ভেনেজুয়েলাকে নিয়ে এখন নানা পরিকল্পনা সাজাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (৭ জানুয়ারি) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, ভেনেজুয়েলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি ধাপের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটা ভেনেজুয়েলায় স্থিতিশীলতা আনার মধ্যদিয়ে শুরু হবে, সেখানকার পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার করা হবে এবং একটি পরিবর্তন ঘটানোর মধ্যদিয়ে শেষ হবে।’
এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ভাঙা কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে ‘অনুসন্ধানমূলক প্রক্রিয়া’ শুরুর ঘোষণা দিয়েছে ভেনেজুয়েলা সরকার। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিবৃতিতে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বাধীন সরকার জানায়, মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের কর্মকর্তারা এরই মধ্যে কারাকাস সফর করেছেন। শিগগিরই ওয়াশিংটনে ভেনেজুয়েলার একটি প্রতিনিধি দল পাঠানো হবে বলেও জানানো হয়।
এর মধ্যেই হোয়াইট হাউসে বিশ্বের শীর্ষ তেল কোম্পানিগুলোর নির্বাহীদের সাথে বৈঠক করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠকে তিনি বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন পুনর্গঠন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ।’
ট্রাম্প জানান, কোন কোন মার্কিন কোম্পানি ভেনেজুয়েলায় প্রবেশ করবে, সে সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রই নেবে। শেভরন, এক্সনমোবিল ও কনোকোফিলিপসসহ বড় তেল কোম্পানির প্রতিনিধিরা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে বলেছেন, ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি ও রাজস্ব দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায় ওয়াশিংটন, যাতে দেশটির রাজনৈতিক গতিপথ যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে।
কেকে/এমএ