শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশবাসীর সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী      শনিবার থেকে দেশব্যাপী তিন মাসের ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান      স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের সুযোগ নেই : প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম      হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু      আরও বেড়েছে সবজির দাম      লালবাগে পাঁচতলা ভবনের নিচে মাটি খুঁড়ে মিলল ব্যবসায়ীর লাশ      কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট আবার খুলে দেওয়া হলো      
জাতীয়
২০ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত, শীতে বেড়েছে দুর্ভোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:১২ এএম
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

পৌষ মাসের শেষের দিকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। পঞ্চগড়ে সর্বনিম্ন ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। শৈত্যপ্রবাহের সাথে ঘন কুয়াশা সকালবেলা চলাচলকে কঠিন করেছে, যা নিম্ন আয়ের মানুষ ও দিনমজুরদের জন্য বিশেষভাবে দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে, ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তার আগের দিন বুধবারও (৭ জানুয়ারি) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, তবে তা রেকর্ড করা হয়েছিল নওগাঁর বদলগাছীতে। এটিই এখন পর্যন্ত এই শীত মৌসুমের দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

অন্যান্য অঞ্চলের মধ্যে শুক্রবার চুয়াডাঙ্গা ও পাবনায় ৮ দশমিক ৫, কুড়িগ্রামে ৯, সিরাজগঞ্জে ৯ দশমিক ১, নীলফামারী ও রাজশাহীতে ৯ দশমিক ৪, যশোরে ৯ দশমিক ৫, রংপুরে ৯ দশমিক ৬, কুষ্টিয়া ও দিনাজপুরে ৯ দশমিক ৮ এবং বগুড়ায় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

শুক্রবার আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, নরসিংদী, যশোর, চুয়াডাঙ্গা এবং কুষ্টিয়া জেলাসহ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে জেলার সংখ্যা ১৬। সব মিলিয়ে ২০ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার দেশের ২৪ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ ছিল।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) থেকে আগামী বুধবার (১৪ জানুয়ারি) পর্যন্ত মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। শনি ও রোববার সারা দেশের রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ‘শৈত্যপ্রবাহ কয়েক দিন চলতে পারে। আগামী দুই দিন পর তাপমাত্রা খানিকটা বাড়তে পারে। তবে তারপর আবার তাপমাত্রা কমতে শুরু করবে। এতে নতুন নতুন জেলা যুক্ত হতে পারে, আবার কিছু জেলা বাদ পড়তে পারে।’

তিনি জানান, শ্রীলঙ্কার উপকূলে এখন একটি নিম্নচাপ আছে। এর জন্য বায়ুতে উষ্ণতা ছড়িয়ে আছে। এ কারণে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কুয়াশা কিছুটা কেটেছে। তবে কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, নোয়াখালীসহ ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন স্থানে কুয়াশা রয়ে গেছে।

এদিকে পঞ্চগড়ে হিমালয় থেকে বয়ে আসা হাড়কাঁপানো হাওয়া শীতের তীব্রতা আরও বাড়িয়েছে। পাশাপাশি রাত গভীর হলেই ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে জেলার সড়ক ও মহাসড়কগুলো। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশা এতটাই ঘন হয়ে ওঠে যে, কয়েক হাত দূরের কিছুই দেখা যায় না। ফলে, সকালেও মহাসড়কে যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ। জীবিকার তাগিদে তীব্র শীত উপেক্ষা করে ভোরেই কাজে বের হতে হচ্ছে তাদের।

বোদা উপজেলার মন্নাপাড়া এলাকার দিনমজুর জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এত শীতে কাজ করতে খুব কষ্ট হয়। হাত-পা অবশ হয়ে যায়, তবুও কাজ না করলে সংসার চলে না।’

কলেজপাড়া এলাকার ভ্যানচালক মো. হাসান বলেন, ‘ভোরে বের হলে কুয়াশার কারণে সামনে কিছুই দেখা যায় না। যাত্রীও খুব কম পাওয়া যায়, ভাড়াও ঠিকমতো মেলে না।’

পঞ্চগড় সদর উপজেলার তালমা এলাকার বাসিন্দা আতিক হোসেন বলেন, ‘এত ঠান্ডায় হাঁটাচলা করা যায় না। কৃষি কাজ-কাম বন্ধ হয়ে আছে। বাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে বসে থাকতে হয়।’

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত   শীতে দুর্ভোগ  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close