সম্প্রতি রাজবাড়ীতে কুকুর, বিড়াল ও ইঁদুর কামড়ানো রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। তবে প্রায় এক মাস ধরে সদর হাসপাতালসহ জেলার অধিকাংশ ফার্মেসিতে জীবনরক্ষাকারী র্যাবিস ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে রোগীরা চিকিৎসা না পেয়ে আতঙ্কিত দিন কাটাচ্ছেন।
ভ্যাকসিনের জন্য প্রতিদিন গড়ে এক থেকে শতাধিক রোগী সদর হাসপাতালে আসে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে ভ্যাকসিন না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়। এই সুযোগে একটি অসাধু চক্র রোগীদের জিম্মি করে দ্বিগুণ দামে টিকা বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রোগীদের স্বজনরা দ্রুত ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করে আতঙ্ক ও ভোগান্তি দূর করার দাবি জানিয়েছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, ভ্যাকসিন সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে আগামী এক মাসের মধ্যে নতুন ভ্যাকসিন পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর থেকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে র্যাবিস ভ্যাকসিন সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফার্মেসিতেও দীর্ঘদিন ধরে এই ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না। সরকারি মূল্য ৫০০ টাকার ভ্যাকসিন বর্তমানে কিছু অসাধু চক্রের মাধ্যমে ১০০০ টাকা বা তার বেশি মূল্যে বিক্রি হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শিশু ও বয়স্কসহ রোগীরা হাসপাতালের র্যাবিস টিকাদান কক্ষে ভিড় করছে। কেউ নিজে ভ্যাকসিন আনছেন, কেউ ক্রয় করতে ব্যর্থ হয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। অনেক রোগী আতঙ্কিত অবস্থায় হাসপাতালের বাইরে অপেক্ষা করছেন।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল জেলার ৫টি উপজেলা ও ৩টি পৌরসভার প্রায় ১৫ লাখ মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসাস্থল। হাসপাতালটি বর্তমানে চিকিৎসক, ওষুধ ও ভ্যাকসিনের সংকটে জর্জরিত। সামান্য জটিলতা দেখা দিলেই রোগীদের ফরিদপুর বা ঢাকায় রেফার করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
রোগীর স্বজনরা জানিয়েছেন, ভ্যাকসিনের জন্য নানা স্থানে গিয়ে দ্বিগুণ বা ততোধিক দামে কিনতে হচ্ছে। সরকারি ভ্যাকসিন থাকলে গরিব মানুষদের সমস্যা হতো না।
র্যাবিস টিকাদান কেন্দ্রের ইনচার্জ শিরিনা খাতুন বলেন, “বর্তমানে ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ। কেউ কেউ গ্রুপ করে ভ্যাকসিন নিয়ে আসে, আমরা তাদের মাধ্যমে টিকা দিচ্ছি। বাইরে কেউ অসাধু উপায়ে বিক্রি করলে তা নজরে রাখছি।”
সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ মোহাম্মদ হান্নান বলেন, “গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর থেকে হাসপাতালে র্যাবিস ভ্যাকসিন নেই। বিষয়টি ঢাকায় জানানো হয়েছে। আশা করছি এক মাসের মধ্যে নতুন ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে। বাজারে অতিরিক্ত মূল্যের বিষয়ে হাসপাতালের কেউ জড়িত নয়। যারা টিকা দিচ্ছেন তারা শুধুমাত্র পরামর্শ দেন।”
কেকে/এলএ