রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬,
৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর      হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু      রাষ্ট্রপতির শপথ-দায়িত্বভার গ্রহণের প্রজ্ঞাপন জারি      নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা      রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ মির্জা ফখরুলের      প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণমন্ত্রী হলেন রশিদুজ্জামান মিল্লাত      কে কোন দায়িত্ব পাচ্ছেন শপথ নেওয়া ছয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী      
জাতীয়
ছাত্র-জনতার ওপর হামলাকারী ড. মোমেন ছদ্মবেশে ছিলেন ৮ মাস
খোলা কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:৩৭ এএম
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

২০১৮ সালে ‘রাতের ভোটে’ বড় ভাইয়ের প্রভাব খাটিয়ে নির্বাচিত হয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়া এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও গুলি বর্ষণ মামলার আসামি ড. এ কে আব্দুল মোমেন। 

হাসিনা সরকারের পতনের পর সরকারি লোকদের সহযোগিতায় দেশেই ছদ্মবেশে আত্মগোপনে ছিলেন বলে নিজেই স্বীকার করেছেন। ৫ আগস্টের পর প্রায় আট মাস তিনি দেশের ভেতরেই এক স্থান থেকে আরেক স্থানে পালিয়ে বেড়ান এবং পরে গোপন পথে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান, যেখানে বর্তমানে তিনি অবস্থান করছেন।

সম্প্রতি সাংবাদিক সুলতানা রহমানের সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল টক শোতে অংশ নিয়ে ড. মোমেন আত্মগোপনে থাকা, ছদ্মবেশ ধারণ এবং দেশ ছাড়ার অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে তুলে ধরেন। টক শোতে তিনি জানান, সরকার পতনের পর অন্যান্য মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের মতো তিনিও আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হন। ওই সময় গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় একাধিকবার বাসা পরিবর্তন করেন, ছয়বার মোবাইল ফোনের সিম পরিবর্তন করেন এবং নিজের চেহারাও পরিবর্তন করেন।

ড. মোমেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের ছোট ভাই। তিনি ২০১৮ সালে সিলেট-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে তিনি পুনরায় নির্বাচিত হলেও নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি।

টক শোতে আত্মগোপনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে ড. মোমেন বলেন, তিনি আত্মীয়স্বজনের বাসায় না থেকে বিভিন্ন ভাড়া বাসায় অবস্থান করতেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব বাসা সাধারণত বিদেশি ক্রেতাদের জন্য প্রস্তুত রাখা হতো, কিন্তু দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে সেগুলো ফাঁকা থাকায় সেখানে থাকা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ছিল।

গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি নিজের চেহারা পরিবর্তন করেন এবং নাপিত আনার ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেন বলে জানান।

উল্লেখ্য, ড. মোমেনেন স্ত্রী সেলিনা মোমেন ছায়া মন্ত্রী হিসেবে সিলেট পরিচিত ছিল এবং সরকারী দপ্তরে প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিতেন।

ড. মোমেন আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ব্যবস্থা মূলত তার স্ত্রীই করেন। পাশাপাশি আত্মগোপন ও দেশ ছাড়ার পুরো প্রক্রিয়ায় তিনি সরকারি পর্যায়ের কিছু লোকের সহযোগিতা পেয়েছেন বলেও স্বীকার করেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, তিনি বিমানবন্দর দিয়ে দেশ ছাড়েননি। কোন পথে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন। সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে অস্বীকৃতি জানান।

আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের ঠিক আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন এবং কয়েকদিন আগে দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটলে তাকেও আত্মগোপনে যেতে হয় বলে দাবি করেন। পালিয়ে থাকার অভিজ্ঞতাকে তিনি “একটি সিনেমার গল্পের মতো” বলে উল্লেখ করেন এবং নিজেকে দেশ ছাড়াদের মধ্যে শেষ দিকের একজন হিসেবে বর্ণনা করেন।

সবশেষে ড. মোমেন দাবি করেন, তিনি কোনো অনিয়ম বা অপরাধে জড়িত ছিলেন না।

কেকে/এজে


আরও সংবাদ   বিষয়:  ছাত্র-জনতার ওপর হামলাকারী   ছদ্মবেশে ড. মোমেন  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close