দিনাজপুরের পার্বতীপুরে মশিউর রহমান নামে এক আ.লীগ নেতার হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন নুর নাহার বানু (৬০) নামে এক নারী। সম্প্রতি উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
বর্তমানে ওই নারী দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন যাবৎ চন্ডিপুর ইউনিয়নের বড়হরিপুর পশ্চিম ম্যাড়েয়া গ্রামের মৃত. মকবুল হোসেনের স্ত্রী নুর নাহার বানু (৬০) এর সাথে একই এলাকার মহির উদ্দীনের ছেলে মশিউর রহমানের পরিবারের জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল।
এরই প্রেক্ষিতে গত ৩১ ডিসেম্বর দুপুরে জমিতে নেট দিয়ে বেড়া দেয়ার সময় মশিউর রহমান ওই নারীর উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে। খবর পেয়ে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি করে।
এসময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার পায়ের গভীরে ক্ষতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারপিটের চিহ্ন পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় ন্যায় বিচারের দাবিতে ভুক্তভোগীর ছেলে নজিবর রহমান রুবেল গত ১১ জানুয়ারী বাদী হয়ে পার্বতীপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সরেজমিনে গেলে নজিবর রহমান রুবেল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের জমিতে আমরা ফসল ফলানোর জন্য দিন-রাত কষ্ট করে কাজ করে যাচ্ছি। কোন প্রকার বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই সেখানে ১ শতক জমি নিজেদের দাবি করে প্রতিনিয়তই নানাভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে আসছে মশিউর।
সর্বশেষ ঘটনার দিন আমার মায়ের সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মেরে গুরুতর আহত করেছে। মশিউর রহমান চন্ডিপুর ইউনিয়ন আ.লীগের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ৫১ কমিটির সদস্য। সুষ্ঠ বিচারের দাবিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।’
মেয়ে মেহেনাজ পারভীন বলেন, ‘দিনে দুপুরে মশিউর রহমান ধারালো অস্ত্রের মাধ্যমে কুপিয়ে যেভাবে আমার মাকে আহত করেছে। এলাকাবাসী যদি না থাকত সেদিন আমার মায়ের মৃত্যু হতে পারতো। বর্তমানে আমাদের পরিবারের সকলের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আমরা সুষ্ঠ্য বিচার চাই।’
বিষয়টি জানতে গতকাল অভিযুক্ত মশিউর রহমানের বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে তার মতামত জানা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে পার্বতীপুর মডেল থানার সাব ইন্সপেক্টর সাহেব আলী জানায়, ‘অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
কেকে/বি