পরিবারের বড় ও একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যের মৃত্যুতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন রাজবাড়ীর পেট্রল পাম্প শ্রমিক রিপন সাহা (৩০) এর পরিবার। তার পরিবারে শোকের মাতম চলছে।
রিপন সাহা ছিলেন অসুস্থ বাবা-মায়ের চার সন্তানের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ নয়, বরং বড়। তিনি গোয়ালন্দ মোড়ের করিম ফিলিং স্টেশন-এ তেল সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করতেন। তার আয়ের টাকায় চলতো সংসার ও বাবা-মায়ের চিকিৎসা খরচ। তেল সরবরাহ করতে গিয়ে গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত হন তিনি।
পরিবার ও পেট্রল পাম্পের কর্মকর্তা জানান, রিপন সাহা অত্যন্ত ভদ্র ও পরিশ্রমী ছেলে ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ৫ হাজার টাকার তেল নিয়ে টাকা না দিয়ে গাড়ি পালানোর সময় রিপন দৌড়ে গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে গেলে তাকে চাপা দিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। ঘটনার দিন তার বিয়ের জন্য মেয়েকে দেখতে যাওয়ার কথা ছিল, যা আর সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পর পেট্রল পাম্পের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে গাড়িটি জব্দ করেছে। গাড়ির মধ্যে থাকা চালক কামাল হোসেন এবং গাড়ির মালিক, ঠিকাদার আবুল হাসেম সুজনকে আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় রিপন সাহা গাড়িতে তেল সরবরাহ করছিলেন। গাড়ির মালিক ও চালক টাকা না দিয়ে গাড়ি পালালে তিনি তা আটকাতে দৌড়ে যান। কিছু সময় পর পাম্পের সামনের সড়কে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
নিহত রিপন সাহার ছোট ভাই প্রদীপ সাহা জানান, নিহতের নামে হত্যা ও প্রতারণার মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাইছেন যাতে কেউ এমন ভয়ংকর কাজ করার সাহস না পায়।
নিহতের বাবা পবিত্র সাহা বলেন, “আমি অসুস্থ। সংসার ও ঔষধের খরচ সবকিছু রিপন চালাতো। তার বিয়ের জন্য মেয়েকে দেখার কথা ছিল, কিন্তু তাকে নৃশংসভাবে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যা করা হলো। এই হত্যার বিচার চাই।”
রাজবাড়ী সদর থানার ওসি খোন্দকার জিয়াউর রহমান জানিয়েছেন, এ ঘটনায় দুইজনের নামে মামলা হয়েছে এবং তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
কেকে/এলএ