ইউফ্রেটিস নদীর তীরে অবস্থিত কৌশলগত শহর তাবকা এবং এর সামরিক বিমানবন্দর সম্পূর্ণভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে সিরিয়ার সেনাবাহিনী। এটি রাক্কা প্রদেশে দ্রুতগতির সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে এসেছে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিরিয়ার তথ্যমন্ত্রী হামজা আল-মুস্তাফা জানিয়েছেন, কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) যোদ্ধাদের সরিয়ে সরকারপন্থি বাহিনী তাবকা ও নিকটবর্তী ইউফ্রেটিস বাঁধ নিরাপদ করেছে। উল্লেখ্য, এটি সিরিয়ার সবচেয়ে বড় বাঁধ।
সিরিয়ার সরকার অভিযোগ করেছে, কুর্দি-নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) ও পিকেকে-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠী তাবকায় বন্দি ও আটক ব্যক্তিদের হত্যা করেছে। সরকারের বিবৃতিতে এসব হত্যাকাণ্ডকে জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী ‘গুরুতর যুদ্ধাপরাধ’ এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আলেপ্পো থেকে আলজাজিরার প্রতিবেদক জেইন বাসরাভি জানিয়েছেন, উত্তর সিরিয়ায় সংঘর্ষের গতি হঠাৎ বেড়ে গেছে। মাত্র দুই সপ্তাহ আগেও আলেপ্পোর পাড়াগুলোতে তীব্র লড়াই চলছিল, কিন্তু গত ২৪ ঘণ্টায় এসডিএফের একাধিক ঘাঁটি সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
সেনাবাহিনী রাক্কার পশ্চিম গেট থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে পৌঁছেছে। মানসুরা এলাকায় ঘেরাওয়ের মুখে পড়ার পর ৬৪ এসডিএফ যোদ্ধা আত্মসমর্পণ করেছে। তাবকায় সেনারা একাধিক দিক থেকে প্রবেশ করে সামরিক বিমানবন্দরের ভেতরে পিকেকে যোদ্ধাদের ঘিরে ফেলেছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরোনো সেতুর কাছে পাইপলাইনে বিস্ফোরণের কারণে রাক্কার পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা জানিয়েছে, ইউফ্রেটিস নদীর ওপর সেতুটি এসডিএফ ধ্বংস করেছে।
২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত রাক্কা আইএসের নিয়ন্ত্রণাধীন ছিল। যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত এসডিএফ শহরটি মুক্ত করলেও আইএসের শাসনে রাক্কার ব্যাপক ধ্বংস ও গণহত্যা হয়েছিল।
কেকে/ আরআই