রোববার, ২ আগস্ট ২০২৬,
১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

রোববার, ২ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যু      দুবাইয়ের জেল থেকে মুক্তি পেলেন বেনজীর      ঢাকার চারপাশের নৌ-পথ সচলের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর      ঢাকা ওয়াসার নতুন চেয়ারম্যান পানি বিশেষজ্ঞ ড. সাব্বির মোস্তফা খান      ভোজ্যতেলের দাম বাড়াতে সরকারকে চাপ ব্যবসায়ীদের      আগস্টেই যোগদানের দাবিতে শাহবাগে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কর্মসূচি      পরিস্থিতি অনুকূলে এলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন : মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত      
দেশজুড়ে
নীলফামারীতে তিস্তা বাধ ভেঙে সহস্রাধিক একর জমির ফসল নষ্ট
নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:১৭ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

নীলফামারীতে তিস্তা সেচ প্রকল্পের দিনাজপুর খালের ডানতীরের বাধ ভেঙে সহস্রাধিক একর জমির ফসল পানির নীচে নিজ্জিত হয়েছে। সোমবার দুপুরে জেলা সদরের ইটাখোলা ইউনিয়নের সিংদই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সেচখালে সকালের দিকে পানি স্বাভাবিক থাকলেও দুপুরের দিকে বৃদ্ধি পায়। 

এতে করে ডানতীরের ১৮ মিটারের অধিক বাধ ভেঙে প্রবল গতিতে ফসলী জমিতে পানি প্রবেশ করে। খালের ডানতীতে অস্বাভাবিক পানি প্রবেশ করায় ওই পানি নিঃস্কাশনের আউলেট  (ড্রেন) দিয়ে বাম তীরের ফসলী জমিও পানিতে নিমজ্জিত হয়। এতে করে সেচ খালের উভয় পার্শ্বে মাঠে থাকা আলু, সরিষা, মিষ্টি কুমড়া, ভুট্টা, বোরো বীজতলাসহ সহস্রাধিক একর জমির ফসল নষ্ট হয়।

সিংদই কামারপাড়া গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন জানান, রোববার রাতে ক্যানেলে পানি আসে। সোমবার সকাল পর্যন্ত স্বাভাবিক ছিল। দুপুরে পানি বাড়লে বাধ ভেঙ্গে দ্রুত গতিতে আবাদী জমিতে পানি প্রবেশ করে। এতে করে গ্রামের দুই শতাধিক কৃষকের এক হজার একরের উর্দ্ধে জমির আলু, ভুট্টা, সরিষা, কুমড়া, বোরো বীজতলা পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়।
তিনি বলেন,‘অনেক কষ্টে ধার দেনা করে লাভের আশায় এবার দুই বিঘা জমিতে আলু আবাদ করেছি। এখন ক্যানেলের পানিতে ক্ষেত নষ্ট হলো। ওই ধার দেনা কিভাবে শোধ হবে বুঝতে পারছি না’।

তার ন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন একই গ্রামের কৃষক হাফিজার রহমান। তার স্ত্রী মমতা বেগম (৩৫) বলেন,‘২৫ হাজার টাকা ঋণ করি মানষির জমি কণ্টাক (চুক্তি) নিয়া দেড় বিঘা জমিত আলু আবাদ করিছি। এলা ক্যানেল ভাঙ্গি আলু ক্ষেত পানির নীচোত তলে নষ্ট হইল। ঋণের টাকা শোধ করিমো কেমন করি’।

অপর কৃষক বাবুল হোসেন (৩৫) বলেন,‘ওই পানিতে আমাদের পরিবারের ১০ বিঘা জমির আলু, ভুট্টা, সরিষা এবং বোরো বীজতলা নষ্ট হয়েছে। এ ক্ষতি পোষানো খুবই কষ্টকর হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ক্যানেলের পানি ছাড়ার আগে একটু সতর্ক হলে কৃষকরা রক্ষা পেত। আমরা ক্ষতিপূরণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে দাবি জানাচ্ছি’।

ইটাখোলা ইউনিয়নের উত্তরাশশী গ্রামের কৃষক আব্দুল জব্বার (৫৬) ওই এলাকার জমি চুক্তি নিয়ে আলু আবাদ করেছেন আড়াই বিঘা জমিতে। এজন্য তিনি বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছেন ৭০ হাজার টাকা। কথা ছিল আলু তুলে ওই ঋণ পেিরাশ করবেন। এখন পানিতে ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।

ওই কৃষক অভিযোগ করে বলেন,‘কিছুদিন আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড ক্যানেল সংস্কারের কাজ করেছে। নিম্ন মানের কাজ হওয়ায় সেচ মৌসুম শুরু না হতেই বাধ ভেঙ্গে যায়’। এর আগে গত পাঁচ বছর আগে একই স্থানে বাধ ভেঙ্গে ফসলের ক্ষতি হয় বলে জানান তিনি।

নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মঞ্জুর রহমান বলেন, ‘আমি এলাকা পরিদর্শণ করেছি। এখন জমিতে আলু, ভুট্টা, মিষ্টি কুমড়া, বোরো বীজতলাসহ অন্যান্য ফসল ছিল। এর মধ্যে আলু তোলার সময় হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নির্ধারণে কাজ চলছে। তবে আনুমানিক ৫০ একর জমির ফসল নষ্ট হতে পারে’।

নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান বলেন,‘আমাদের সেচের চাহিদা এখনো শুরু হয়নি। আমরা পরীক্ষামূলক সেচ খালে পানি  ছেড়েছি। সেচ খালে কৃষকদের চোরাই পাইপ অথবা ইঁদুরের গর্ত থেকে পারটির প্রায় ১৮ মিটার বিধ্বস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত বাধটি মেরামতে দ্রুত কাজ শুরু করার প্রক্রিয়া চলছে। কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টিও আমরা চেষ্টা করছি’। 

এসময় তিনি প্রায় ৩০ একর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে জানান।

কেকে/এমএফ




মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close