ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল তার ১৯ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ইশতেহার তুলে ধরেন। ইশতেহারে সদর ও বিজয়নগর এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করা হয়।
ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ দফাগুলোর মধ্যে রয়েছে—পৌরসভা ও গ্রামাঞ্চলের সব রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন ও টেকসই মেরামত, ছয় লেনবিশিষ্ট মহাসড়কের কাজ দ্রুত সম্পন্ন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশন আধুনিকায়ন ও ঢাকা রুটে নতুন কমিউটার ট্রেন চালু, তিতাস নদী খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং শহরের খালগুলো পরিষ্কার করা।
এছাড়াও নারী ও শিশুদের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, মাদরাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন, শিক্ষিত তরুণদের জন্য জব ফেয়ার আয়োজন, খেলাধুলার মাঠ ও ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন, গ্রাম পর্যায়ে কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ ও জলাশয় সংরক্ষণের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়।
ইশতেহারে আরও রয়েছে—শীতকালে গ্যাস সংকট নিরসন, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে বিপণন কেন্দ্র স্থাপন, প্রশাসনকে দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক করা, নগর ব্যবস্থাপনায় নতুন বাইপাস ও বিকল্প সড়ক নির্মাণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন। পাশাপাশি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ, সদর হাসপাতালের আধুনিকায়ন ও শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং যুব সমাজের জন্য আইটি পার্ক ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, “জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার এবং একটি মাদক ও চাঁদাবাজিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠাই তার রাজনীতির মূল লক্ষ্য। তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিজেদের ভোট নিজেরা প্রয়োগ করে পরিবর্তনের পক্ষে দাঁড়াতে হবে। ধানের শীষ প্রতীকে একটি ভোটই সদর ও বিজয়নগরবাসীর ভবিষ্যৎ বদলের হাতিয়ার হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম সিরাজসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।"
কেকে/এলএ