সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬,
২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী      ৪১৬ বছরপূর্তিতে বর্ণিল ‘ঢাকা উৎসব’, উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী      ১৫ জুলাই সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণের নির্দেশ      সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী      আগামী ৫ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানো হবে: প্রধানমন্ত্রী      দীর্ঘ হচ্ছে হামে মৃত্যুর মিছিল      ডুবল ঢাকা ভুগল মানুষ      
জাতীয়
চাঁদাবাজি-আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই মুছাব্বির হত্যাকাণ্ড
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:৩৬ পিএম
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করেই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি)  গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে ঢাকার মিন্টু রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কারওয়ান বাজার এলাকায় প্রকাশ্যে ও গোপনে চাঁদা আদায়ের সাথে জড়িত ৮-৯টি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। চাঁদার টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে দিলীপ ওরফে বিনাশের নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।’

এসব সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে ডিবি কাজ করছে এবং শিগগিরই অভিযান শুরু করা হবে বলেও জানান তিনি।

‘স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা উত্তর সিটি ইউনিটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুছাব্বিরকে গেল ৭ জানুয়ারি কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ের পাশের একটি গলিতে গুলি করে খুন করা হয়। পর দিন তার স্ত্রী তেজগাঁও থানায় ৪-৫জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘এই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভার মনোহরদী থানা এলাকার শাহজাহান খলিফার ভাড়া বাড়ি থেকে ২টি বিদেশি পিস্তল, দুইটি ম্যাগাজিন, ১২ রাউন্ড গুলিসহ হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী অন্যতম শ্যুটার মো. রহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই বিষয়ে মাধবদী থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

ব্রিফিংয়ে হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কারওয়ান বাজার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ও কাঁচাবাজারের বড় জায়গা। সেখানের দখল বাণিজ্য ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি।’

দলীয় লোকজনের সাথে চাঁদাবাজি নিয়ে বিরোধ ছিল কিনা জানতে চাইলে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘চাঁদাবাজদের কোনো দল নেই। কারওয়ান বাজারে বিভিন্ন নামে ৮-৯টি গ্রুপ চাঁদা তোলে। এই সিন্ডিকেটটি আমরা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমরা অচিরেই এটা নিয়ে অপারেশন করবো।’

এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে বিনাস নামের একজনের নাম পাওয়া যাচ্ছে। যিনি দেশের বাইরে থাকে। তার নামেও চাঁদা তোলা হয়। এই বিনাসের অর্থায়নে মোছাব্বির হত্যাকাণ্ড হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দিলীপ ওরফে বিনাস এমন একটি নাম এসেছে। 

‘আমরা প্রাথমিকভাবে তার সংশ্লিষ্টতা পেয়েছি। যেই আসামিগুলো ধরা হয়েছে, তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা ছিল। একজন আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। ওদের কথায়ও উঠে এসেছে, দাদা আছে, দাদা দেখবে। আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, তার নির্দেশেই এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে।’

আরেক প্রশ্নের উত্তরে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃতরা ভাড়াটে, আবার তারাও কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজির সাথে জড়িত- এমন তথ্য আমাদের কাছে এসেছে। সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা গেছে, রহিম ও জিন্নাত দৌড়ে যাচ্ছে। তারা দুইজনই গুলি করেছে।’

বিনাস কে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিনাস আন্ডারওয়ার্ল্ডের একজন সন্ত্রাসী। তিনি দেশের বাইরে আছেন। তবে তার রাজনৈতিক পরিচয় জানতে পারিনি।’

হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারীদের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই। তারা নিজেদের পরিচয়ে সব জায়গায় যেতে পারে।

‘সামনে নির্বাচন। এই মুহূর্তে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য অনেকে তৎপর আছে। এই মাসে আমরা সর্বাধিক সংখ্যক প্রায় ১৩টির মতো আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছি। অন্য সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

এর আগে, ১১ জানুয়ারি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে জিন্নাত (২৪), আবদুল কাদির (২৮), মো. রিয়াজ (৩১) ও মো. বিলালকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) নরসিংদী থেকে আরেকজন কথিত শুটার রহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে এ ঘটনায় মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হল।

গ্রেপ্তারদের পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তাদের চাঁদাবাজ হিসেবেই চিহ্নিত করা উচিত।’

‘চাঁদাবাজদের কোনো রাজনৈতিক আদর্শ নেই। চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যানারের আশ্রয় নেয়।’

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  চাঁদাবাজি-আধিপত্য বিস্তার   মুছাব্বির হত্যাকাণ্ড   
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close