তারুণ্যের উৎসব-২০২৫ পালন করতে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় দেশব্যাপী পাঁচ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিটিতে ৫০টি করে বনজ, ফলজ ও ভেষজ চারা রোপণের কর্মসূচি হাতে নিয়েছিল। আগামীকাল সোমবার (২৬ জানুয়ারি) তা উদ্বোধনের কথা থাকলেও বন অধিদপ্তর থেকে তা স্থগিত করা হয়েছে।
সোমবার (২৫ জানুয়ারি) বন অধিদপ্তরের সহকারি প্রধান বন সংরক্ষক মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ আদেশ দেওয়া হয়। সম্প্রতি এটি নিয়ে দৈনিক খোলা কাগজে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়
এদিকে, এই আদেশকে অনেকাংশে সরকারের টাকা অপচয় থেকে রোধ করা হয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। জানুয়ারি মাস শীতকাল হিসাবে শুস্ক মৌসুম হিসাবে পরিচিত। এ সময়ে বিশেষ করে কোন ধরনের চারা লাগানো হলে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে চারা রোপণ করলে তা ভালভাবে বেড়ে উঠার সুযোগ আছে। কারণ, বাংলাদেশের পরিবেশ প্রকৃতি অনুযায়ী, বর্ষা মৌসুমে চারা লাগানো হয় এবং সরকারিভাবে চারা লাগানোর বাজেট আসলে তা বর্ষা মৌসুমে কাজ শেষ করে বনবিভাগ।
কিন্তু এই বছর একটু ভিন্নভাবে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় তারুণ্যের উৎসব ২০২৫ পালনের জন্য বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছিল।
তারুণ্যের উৎসব-২০২৫ পালনের জন্য সোমবার দেশব্যাপী পাঁচ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিটিতে ৫০টি করে মোট আড়াই লাক বিভিন্ন ধরনের গাছের চারা রোপণের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সারাদেশে একযোগে বৃক্ষরোপণের এই কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন বলেও জানা যায়। এর মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯০ লাখ টাকা। তবে, এখন অনিকার্য কারণবশত তা স্থগিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সচেতন মহল মনে করছে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় দেশব্যাপি বৃক্ষরোপণের এই কর্মসূচি অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার হতো যদি সঠিক সময়ে সেটি বাস্তবায়ন করা হতো। দেশের শিক্ষিত/অশিক্ষিত, শহর কিংবা গ্রামের সব মানুষই জানে, বৃষ্টি তথা বছরের মে-জুলাই মাসে গাছের চারা রোপণ করতে হয়, যাতে চারাগুলো টেকসই হয়ে বৃক্ষে পরিণত হয় এবং দেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাসহ বনজ, ফলজ চাহিদা পূরণ হয়।
এদিকে মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধানে আরো চমকপ্রদ তথ্য পাওয়া যায়, বন বিভাগের বিভিন্ন ডিভিশনের নিয়ন্ত্রণে রেঞ্জ ও বিট পর্যায়ে দেশব্যাপি বৃক্ষরোপণের এই কর্মসূচি ঘিরে অসন্তোষ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। যদিও বা সরকারের কাজ বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর কাজ করবে, তবে কতটুকু সফল হবে তা নিয়ে সন্ধিহান বলে মনে করছেন তারা।
মাঠ পর্যায়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বন কর্মকর্তা ও কর্মচারী বলেন, জানুয়ারি মাসে এই কর্মসূচি পালনের জন্য তারা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করে হাস্যরসের পাত্র হচ্ছেন শুস্ক মৌসুমে বৃক্ষের চারা রোপণের কথা বলায়। অন্যদিকে, এই মৌসুমে চারা রোপণ করলে তা বাঁচানো সম্ভব হবে না। ফলে ২-১ মাস পরে বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পরিদর্শনে গিয়ে চারার অস্তিত্ব না পেলে মাঠ পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদেকে সরকারি অর্থ অপচয়ের দায়ে সাসপেন্ড করতে পারে।
কেকে/এমএ