মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তেল রপ্তানিতে সুখবর      এবার পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েন      
জাতীয়
মিরসরাইয়ে ভারতকে দেওয়া জায়গায় হবে প্রতিরক্ষা শিল্প
খোলা কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:৩৯ এএম আপডেট: ২৭.০১.২০২৬ ১০:৪৮ এএম

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জায়গায় হবে ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (ডিআইজেড) বা প্রতিরক্ষা শিল্পাঞ্চল। সেখানে উৎপাদিত পণ্য দেশের নিজস্ব চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানিও হবে। প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিলে এই অর্থনৈতিক অঞ্চলটি পরিচালনা করবে। পরে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের জন্যও উন্মুক্ত করা হবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা (বিওএফ) ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ ব্যবস্থাপনায় শিল্পাঞ্চলটি পরিচালিত হবে। পরবর্তী সময়ে ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগকারীদের জন্যও এটি উন্মুক্ত করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) গভর্নিং বোর্ড সভায় নীতিগত এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সভায় সভাপতিত্ব করেন। অন্য উপদেষ্টারাও সভায় উপস্থিত ছিলেন। 

সভার গুরুত্বপূর্ণ অন্য সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ফ্রি ট্রেড জোন (এফটিজেড) নির্মাণ। মার্কিন তুলার মজুত সংরক্ষণসহ যে কোনো দেশের পণ্য বা কাঁচামাল এখানে সংরক্ষণ ও রপ্তানি করা যাবে। এ ছাড়া কুষ্টিয়া সুগার মিলের অব্যবহৃত বিশাল জায়গায় একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণ করাসহ আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সভায়।

সভা শেষে এক ব্রিফিংয়ে সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমও বক্তব্য দেন। 

ডিআইজেড প্রসঙ্গে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, “সামরিকশিল্পে অস্ত্র ও অন্য উপকরণ উৎপাদন নিয়ে অনেক দিন ধরে আলাপ-আলোচনা চলছে। এসব পণ্যের বৈশ্বিক চাহিদাও আছে। একেবারে খাঁটি অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিশ্ব সামরিক বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব থাকা দরকার। এ ছাড়া এ বিষয়ে সক্ষমতাও থাকা খুব জরুরি। কারণ, যুদ্ধক্ষেত্রে বন্দুকে যদি গুলি না থাকে, তাহলে যুদ্ধ করার কোনো সুযোগ নেই।”

তিনি বলেন, ‘বুলেট বা ট্যাঙ্কের এক্সেল খুব উচ্চ প্রযুক্তির আইটেম নয়। এসব আইটেমে বাংলাদেশ কোনো ভূমিকা নিতে পারে কিনা, সে বিষয়ে অনেক দিন ধরে আর্মড ফোর্সেস ডিভিশন, বেজা, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। মিরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের (এনএসইজে) ৮৫০ একর জমিতে এই ডিআইজেড নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই জায়গাটা এ মুহূর্তে খালি আছে। জায়গাটি গত বছরের জুন পর্যন্ত ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত ছিল। তারপর সেটি বাদ দেওয়া হয়েছে।’

ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনে বছরে কী পরিমাণ পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি হবে, কোন দেশ আমদানি করবে, নতুন সরকার এ প্রকল্প চালু রাখবে কিনা– এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, ‘এসব বিষয়ে এখনও বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করা হয়নি। রপ্তানি বাজার হিসেবে অনেক দেশের সঙ্গেই কথা হচ্ছে। দেশের নিরাপত্তা ও স্বার্থের প্রশ্নে সবাই অভিন্ন। সে কারণে পরবর্তী সরকার এসব কার্যক্রম চালু রাখবে বলে তিনি আশাবাদী।’

এফটিজেড প্রসঙ্গে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশে এই মুহূর্তে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল নেই। যেখানে কাস্টমসের কোনো বাধ্যবাধকতা থাকবে না। পণ্য মজুত করা যাবে। পুনঃরপ্তানি করা যাবে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের তুলা বাংলাদেশে খুব একটা বেশি ব্যবহার না হওয়ার কারণ সে দেশ থেকে তুলা আসতে সময় লাগে। কিন্তু যদি মার্কিন তুলা বাংলাদেশের কোনো একটা জায়গায় সংরক্ষণ করা যায়, সেখান থেকে বাংলাদেশ ব্যবহার করতে পারে। প্রয়োজনে অন্য দেশেও রপ্তানি করা যায়। এ রকম উদ্দেশ্যে এফটিজেড নির্মাণে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। জোনটি হবে চট্টগ্রামের আনোয়ারায়। প্রায় ৬৫০ একর জমির জোনটি নির্মাণ করা হবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে এ ধরনের জোন আছে।’

কুষ্টিয়ার সুগার মিল এলাকায় নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল করার বিষয়ে আশিক চৌধুরী বলেন, ‘কুষ্টিয়া সুগার মিল এলাকায় গ্যাস, বিদ্যুৎ, সড়ক অবকাঠামোসহ ২০০ একর জমি প্রস্তুত রয়েছে। উদ্যোক্তারা এসব সেবার অভাবে বিনিয়োগ করার সুযোগ পান না। এ কারণে বেজার সঙ্গে কুষ্টিয়া সুগার মিল এলাকাকে অর্থনৈতিক অঞ্চল করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

তিনি জানান, দেশের ৩৩১ পৌরসভা এলাকায়ও অর্থনৈতিক অঞ্চল করতে চাইলে অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বৈঠকে।

বৈঠকে এফডিআই ইনসেনটিভ স্কিম গঠনের বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত অনুসারে, প্রবাসী বাংলাদেশিরা যদি দেশে এফডিআই নিয়ে আসতে পারেন, তাহলে বিনিয়োগ পুঁজির ১ দশমিক ২৫ শতাংশ তাদের প্রণোদনা হিসেবে দেওয়া হবে। এ ছাড়া বিনিয়োগ উন্নয়নে বর্তমানে যে ছয়টি কর্তৃপক্ষ আছে, সেগুলোকে একীভূত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিদেশে বিডার অফিস খোলার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ায় অফিস খোলা হবে। স্থানীয়রা সেখানে কাজ করবেন। কারণ তারা জানেন, কারা বিনিয়োগ করতে চায়।

এদিকে মহেশখালী ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (মিডা) প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মিডার অধীনে এলএনজি ও এলপিজি টার্মিনাল চালুর সিদ্ধান্ত হয়। বিনিয়োগে জ্বালানি সংকট কাটাতে এই উদ্যোগ। খুব শিগগির টার্মিনাল দুটি চালু করার চেষ্টা করা হবে। এ ছাড়া একটি ফিশ প্রসেসিং কেন্দ্রও তৈরি করা হবে। এ বিষয়ে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি রোডম্যাপ করার কথা জানানো হয় ব্রিফিংয়ে। 

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  মিরসরাই   ভারত   প্রতিরক্ষা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close