রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে বৈটক করেছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
আল-শারার নেতৃত্বে সশস্ত্র বাহিনী রাশিয়ার সাবেক মিত্র বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রায় এক বছরের মাথায় এ বৈঠক হল।
বৈঠকের আগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আল-শারা সিরিয়াকে সমর্থন করার জন্য পুতিনকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যসহ এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতায়’ রাশিয়ার ‘ঐতিহাসিক’ ভূমিকা ছিল। বিপরীতে সিরিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠা ও ভৌগলিক অখণ্ডতা পুনরুদ্ধারের জন্য প্রেসিডেন্ট আল-শারার প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন পুতিন।’
সিরিয়ার সরকারপন্থি বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযান নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন আল-শারা।
২০২৪ সালের শেষ দিকে বাশার আল আসাদের পতনের পর থেকেই সিরিয়ার ক্ষমতার মসনদে বসেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারা। সে সময় পতিত স্বৈরাচার বাশার আল আসাদকে আশ্রয় দেয় মস্কো। তবে, সিরিয়ার নতুন কূটনীতির পর থেকেই পরিবর্তন হতে থাকে মস্কো-দামেস্কের সম্পর্কের। সেই ধারাবাহিকতায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে সাক্ষাত করতে দ্বিতীয়বারের মত মস্কো সফরে রয়েছেন শারা।
বৈঠকে সিরিয়ার বর্তমান প্রশাসনের প্রশংসা করে পুতিন বলেন, ‘দেশটির ভৌগোলিক অখণ্ডতা পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া গতি পাচ্ছে।’
সরকারি বাহিনী পিকেকে-সংশ্লিষ্ট ওয়াইপিজি নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর কাছ থেকে বিস্তীর্ণ এলাকা পুনর্দখল করায় এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সিরিয়ার বৃহত্তর অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে রাশিয়ার সহায়তার জন্য পুতিনকে ধন্যবাদ জানান সিরীয়ার প্রেসিডেন্ট।
ক্রেমলিনের জন্য সিরিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত হমেইমিম বিমানঘাঁটি ও তারতুস নৌঘাঁটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। রুশ কর্তৃপক্ষ এই ঘাঁটিগুলোর অবস্থান ধরে রাখতে দামেস্কের সঙ্গে সমঝোতার আশা প্রকাশ করেছে।
এরই মধ্যে সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ক্বামিশলি বিমানবন্দর এলাকা থেকে রুশ বাহিনী সেনা সদস্য ও সামরিক সরঞ্জাম প্রত্যাহার শুরু করেছে।
সামরিক কার্গো বিমানে করে এসব সরঞ্জাম লাতাকিয়ার হমেইমিম বিমানঘাঁটির দিকে সরিয়ে নেয়া হয়।
সূত্র : খবর আল জাজিরা
কেকে/এমএ