যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আশঙ্কার মাঝে এবার ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। দেশটির অভিজাত রেভল্যুশনারি গার্ড কোরকে (আইআরজিসি) ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইইউ।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে এক বিশেষ বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্তে সম্মত হয়েছেন ইইউর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা ক্যালাস।
পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘দমন-পীড়নের কোনো জবাবহীনতা থাকতে পারে না। ইইউর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এখনই একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।’
তিনি আরও লিখেন, ‘যে শাসনব্যবস্থা নিজের দেমের হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে, তারা আসলে নিজেদের ধ্বংসের দিকেই এগিয়ে যায়।’
ইইউর এই ঘোষণা ফলে আইআরজিসি এখন থেকে আল-কায়েদা ও আইএসের মত আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনের সমপর্যায়ে বিবেচিত হবে।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস হলো ইরানের একটি প্রধান সামরিক বাহিনী, যা ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর প্রতিষ্ঠিত হয়, যার মূল কাজ দেশের ইসলামিক শাসনব্যবস্থা রক্ষা করা, বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রতিরোধ করা ও বিপ্লবের আদর্শিক ভিত্তি সুরক্ষিত রাখা। এটি ইরানের সেনাবাহিনীর একটি পৃথক শাখা, যার নিজস্ব নৌবাহিনী, মহাকাশ বাহিনী, স্থল বাহিনী ও কুদস ফোর্স (বিশেষ বাহিনী) রয়েছে।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস হলো ইরানি সামরিক বাহিনীর একটি শাখা যা ১৯৭৯ সালের ২২ এপ্রিল ইরানের ইসলামি বিপ্লবের পর আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নির্দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়।
ইরানি সংবিধান অনুসারে ইরানি সেনাবাহিনী দেশটির সীমান্ত প্রতিরক্ষা ও অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত থাকে, অন্যদিকে ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্রকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে থাকে। ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী ইসলামি শাসনব্যবস্থার নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি বৈদেশিক হস্তক্ষেপ, সামরিক অভ্যুত্থান বা ভ্রষ্ট আন্দোলন প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।
বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর সেনা, বিমান ও নৌবাহিনী মিলিয়ে অন্তত আড়াই লাখ সামরিক কর্মী রয়েছে। এর নৌবাহিনীটি বর্তমানে পারস্য উপসাগরের সক্রিয় নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত মুখ্য বাহিনী। এছাড়া এটি ৯০ হাজার সক্রিয় কর্মী নিয়ে গঠিত আধাসামরিক বাসিজ মিলিশিয়াও নিয়ন্ত্রণ করে থাকে
এদিকে, ইরানে দমন-পীড়নের ঘটনায় একাধিকবার দেশটিতে হামলার হুমকি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলতি সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী এবং সহযোগী যুদ্ধজাহাজের আগমন ট্রাম্পের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষমতা বেড়েছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) তেহরানকে আল্টিমেটাম দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘একটি বিশাল নৌবহর ইরানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এটি অত্যন্ত দ্রুততার সাথে তার মিশন সম্পন্ন করতে সক্ষম।’
তবে, ট্রাম্পের আল্টিমেটাম প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিতে মাথা নত করবে না বলে জানিয়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, তাদের বাহিনী যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
যদিও তিনি জানান, কোনো ধরনের হুমকি কিংবা জবরদস্তি ছাড়া বৈঠক ও ন্যায্য চুক্তিতে ইরানের আপত্তি নেই।
কেকে/এমএ