বগুড়ায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভাকে ঘিরে ছিল মানুষের ঢল, উত্তেজনা আর দীর্ঘ প্রতীক্ষা। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মানুষ দুপুরের পর থেকেই শহরে আসতে থাকেন। সন্ধ্যার আগেই শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। মাঠে প্রবেশ করতে না পেরে হাজার হাজার মানুষ শহরের সাতমাথাসহ বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নেন তারেক রহমানকে এক নজর দেখার এবং তার বক্তব্য শোনার জন্য।
তবে এই বিপুল জনসমাগমের ভিড়ে ঘটে যায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। চুরি হয়ে যায় শতাধিক মোবাইল ফোন। জনসভায় অংশ নিতে আসা অনেকেই অভিযোগ করেন, ভিড়ের মধ্যে অচেনা স্পর্শ টের পেলেও কিছু বোঝার আগেই তাদের মোবাইল ফোন খোয়া যায়। অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার সময় পকেট ও ব্যাগে হাত দিয়ে অনেকেই বুঝতে পারেন, ব্যক্তিগত যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যমটি আর নেই।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে বগুড়া–২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী রেজাউল করিম তালুসহ নারী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ কর্মী-সমর্থকরাও রয়েছেন। কারও মোবাইল ফোনে ছিল গুরুত্বপূর্ণ ছবি, কারও আবার জীবিকার প্রয়োজনীয় তথ্য। ফলে তারা পড়েন চরম ভোগান্তিতে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাত থেকেই ভুক্তভোগীরা বগুড়া সদর থানায় মোবাইল ফোন হারানোর অভিযোগ করতে থাকেন।
শুক্রবার বগুড়া সদর থানার ডিউটি অফিসার এসআই জেবুন্নেছা বেগম জানান, বিকেল ৪টা পর্যন্ত মোবাইল ফোন হারানোর বিষয়ে ৫০টির বেশি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। আরও অনেকেই মৌখিক অভিযোগ নিয়ে থানায় আসছেন। তিনি আরও জানান, শুক্রবার রাতে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে ভুক্তভোগীরা সাতমাথা এলাকা থেকে দুইজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন।
শুক্রবার বিকেলে বগুড়া সদর থানায় ফোন হারানোর জিডি করতে আসা ব্যবসায়ী রাজেদুর রহমান রাজু বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে শহরের স্টেশন রোডের বিআরটিসি মার্কেটের সামনে হাজারো মানুষের ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিলাম তারেক রহমানকে দেখার জন্য। মানুষের ঠেলাঠেলির একপর্যায়ে পকেটে থাকা দেড় লাখ টাকা মূল্যের শখের ফোনটি খোয়া যায়।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, মোবাইল ফোন হারানোর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। যারা অভিযোগ করছেন, তাদের ফোন উদ্ধারে আমরা গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। তথ্যপ্রযুক্তির পাশাপাশি ভিন্ন কৌশলেও হারানো ফোনগুলো উদ্ধার করে ভুক্তভোগীদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
কেকে/এলএ