জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)-এর সহযোগিতায় গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) আয়োজিত “অসংক্রামক রোগ মোকাবেলায় নিরাপদ খাদ্য এবং আমাদের করণীয়” শীর্ষক ওয়েবিনারে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ছিল—“নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করি, সুস্থ সবল জীবন গড়ি।”
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ওয়েবিনারে জানানো হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী দেশে প্রতিবছর প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার ২৬৩ জন মানুষ অসংক্রামক রোগে প্রাণ হারান। গ্লোবাল বারডেন অব ডিজিজ ২০২১-এর তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত সোডিয়াম, ট্রান্সফ্যাটযুক্ত খাবার ও চিনিযুক্ত কোমল পানীয়সহ অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে বছরে প্রায় ২৭ হাজার ৩৮৭ জন মানুষের মৃত্যু হয়। তবে অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে বরাদ্দ খুবই অপ্রতুল—স্বাস্থ্য বাজেটের মাত্র ৪.২ শতাংশ।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ইপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, “জনগণের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপসহ অন্যান্য অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে নির্ভরতা কমানো জরুরি।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. নাজমা শাহীন বলেন, “অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও ট্রান্সফ্যাটের মতো স্বাস্থ্যহানিকর উপাদান সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন। এটি উচ্চ রক্তচাপসহ অন্যান্য অসংক্রামক রোগ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, “প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে ভোক্তাদের সচেতন করতে সহজবোধ্য ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং ব্যবস্থা চালু করতে সরকার কাজ করছে। আশা করছি, দ্রুতই এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।”
জিএইচএআই-এর বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, “উচ্চ রক্তচাপের মতো অসংক্রামক রোগ মোকাবেলায় সচেতনতার পাশাপাশি টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”
ওয়েবিনারে আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশের হেড অব অনলাইন (বাংলা) মো. মনির হোসেন লিটন। প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরের সভাপতিত্বে ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা করেন প্রজ্ঞার প্রোগ্রাম অফিসার সামিহা বিনতে কামাল। প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ওয়েবিনারে অংশ নেন।
কেকে/এলএ