নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় এক প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে পৈত্রিক সম্পত্তি দখল, গাছ কাটা ও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) কিশোরগঞ্জ প্রেস ক্লাবে ভুক্তভোগী পরিবার এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে মমিনুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, তফসীল বর্ণিত সিএস খতিয়ান নম্বর-৪০৬, এসএ খতিয়ান নম্বর-৪৯০, ৪৯১, যার দাগ নম্বর-৩৫৭৬, ৫০৩, ৩৫৭৮, ৫০২, জমির পরিমাণ ৬ একর ৭১ শতাংশ সম্পত্তি আমি সহ ওয়ারিশগণ ২ একর ৪০ শতাংশ জমি পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত হয়ে ভোগ-দখল করে আসছি। কিন্তু ভুলবশত বিএস রেকর্ডে আমাদের প্রতিপক্ষ দবির উদ্দিন গংদের নামে ২ একর ৪০ শতাংশ জমি রেকর্ড হয়। আমরা বিষয়টি জানতে পেরে নীলফামারী ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুনালে রেকর্ড সংশোধন ও একটি বাটোয়ারা মামলা করেছি। কিন্তু প্রতিপক্ষ উল্লেখিত জমি সহকারী কমিশনার (ভূমি) কিশোরগঞ্জ নীলফামারীকে এক তরফা কাগজপত্র দেখিয়ে জমি জবর দখল করার নির্দেশ নিয়েছে বলে তারা প্রচার করে গত ৩ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগ নেতা শরিফুল ও দবির উদ্দিনগং দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জমি জোরপূর্বক দখল করেন। এ সময় আমাদের জমিতে লাগানো ৬০ টি ইউক্যালিপটাস ও ৬০০ টি কলার গাছ প্রতিপক্ষরা কর্তন করে তছনছ করেছে। প্রতিপক্ষরা গাছ কর্তনসহ আলু, ভুট্টা, মরচি, পেঁয়াজ ক্ষেতের ফসল ও শীমের মাচাং নষ্ট করে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি করেছে।
এ সময় বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয় বলেও অভিযোগ করেন। তাদের তান্ডবের প্রতিবাদ করতে গেলে নারীসহ পরিবারের সদস্যদের মারধর নগদ ৬৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণের চেইন কেড়ে নিয়েছে। এতে ৯ জন গুরুতর আহত হয়ে কিশোরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন এবং রংপুর মেডিকেল কলেজে ৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে।
সংবাদ সম্মলেনে আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা অত্যন্ত প্রভাবশালী ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের পদধারী প্রভাবশালী নেতা। তারা গত ৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে এলাকাবাসীর মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি ও পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত আমাদের জমি তাদের দাবি করে দখল করে চাষ করেছে। প্রতিপক্ষ দবির উদ্দিন কেশবা ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সদস্য, শরিফুল ইসলাম ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তারা বিগত দিনে আওয়ামী লীগের প্রভাব বিস্তার করে আমাদের ভোগ দখলীয় জমি দখলের চেষ্টা এর আগেও করেছেন। আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও পৈত্রিক সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সাথে তারা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু দৃষ্টি কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের প্রায় ৪০ জন নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।
অভিযুক্ত দবির উদ্দিনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, পৈত্রিক সূত্রে জমিগুলো আমাদের। কিন্তু তারা দুই বছর আগে জোরপূর্বক দখল করে বসত, গাছ ও বাগান করেছে। আমরা এসিল্যান্ডকে কাগজপত্র দেখাতে পারলেও তারা কোন কাগজ দেখাতে পারেনি। আমরা আমাদের জমি উদ্ধার করেছি। আমাকে আওয়ামী লীগের কমিটিতে জোরপূর্বক নাম দিয়েছে। তারাও তো আওয়ামী লীগ করেন।
বিরোধকৃত জমি নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে বলেও তিনি জানান।
কেকে/এসএএস