শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের মাটিতে যেন নতুন সূর্যোদয়ের আভাস। যেখানে স্বপ্ন দেখা হচ্ছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাস-চাঁদাবাজমুক্ত ব্যবসাবান্ধব নিরাপদ ও বৈষম্যহীন উপজেলা প্রতিষ্ঠার। আর এই স্বপ্নের রূপকার হিসেবে নিজেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী তুলে ধরেছেন মো. মহসিন মিয়া মধু।
তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল টি কোম্পানি লিমিটেডের (এনটিসি) পরিচালক এবং মহসিন টি হোল্ডিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। শ্রীমঙ্গল পৌরসভার পাঁচবারের সাবেক জনপ্রিয় মেয়র তিনি। দীর্ঘ ২৫ বছর দক্ষতার সঙ্গে পৌর মেয়রের দায়িত্ব পালনকালে তার মেয়াদে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে।
এছাড়া তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পপতি। সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের উদ্যোক্তা হিসেবেও তিনি পরিচিত। মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মহসিন মিয়া মধু এবার দলের মনোনয়ন চেয়ে বঞ্চিত হন। বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী। তবে দলের মনোনয়ন না পেলেও ভোটের মাঠ থেকে সরে যাননি মহসিন মিয়া। ফুটবল প্রতীক নিয়ে ভোটের ময়দান চষে বেড়াচ্ছেন তিনি। গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে ভোটের লড়াইয়ে তিনি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।
শ্রীমঙ্গল পৌরসভার মেয়র থাকাকালীন সময়ে মহসিন মিয়া মধু সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, দখলবাজ ও নৈরাজ্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে ছিলেন। যার ফলে শ্রীমঙ্গলের ব্যবসায়ী, বাসিন্দা ও পথচারীদের কখনো কোনো চাঁদাবাজকে চাঁদা দিতে হয়নি। মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা, নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতকরণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন।
২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে প্রশাসনের সহযোগিতায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিয়ে জনগণের নিরাপত্তায় মাঠে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। করোনা মহামারি, বন্যা ও বিভিন্ন উৎসবে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ ভোটারদের নানাবিধ সমস্যায় পাশে ছিলেন। তার রাজনৈতিক ও সমাজসেবার অভিজ্ঞতা প্রায় ৫৫ বছরের।
মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহসিন মিয়া মধুর একান্ত সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দৈনিক খোলা কাগজ পত্রিকার মৌলভীবাজার জেলা নিজস্ব প্রতিবেদক মো. এহসানুল হক। সাক্ষাৎকারে তার প্রতিটি কথায় ফুটে উঠেছে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জের প্রতি গভীর ভালোবাসা, উন্নয়নের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ এবং সাধারণ মানুষের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয়।
খোলা কাগজ : কেন প্রার্থী হয়েছেন এবং জনগণ কেন আপনাকে ভোট দেবে?
মহসিন মিয়া মধু : শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জবাসীর সেবা করার জন্যই আমি সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হয়েছি। আমার মালিক দুই উপজেলার জনগণ। আমি জনগণের জন্য কাজ করতে চাই। অতীতে আমি পাঁচবার শ্রীমঙ্গল পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়েছি। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত ছিলাম এবং সুখে-দুঃখে পাশে ছিলাম। এই আসনে সব জাতি, ধর্ম ও বর্ণের মানুষের ভোট রয়েছে। বিশেষ করে এখানে সংখ্যালঘু ও চা শ্রমিকের সংখ্যা বেশি। তারা আগে নৌকায় ভোট দিতেন। এবার নৌকা নেই, ধানের শীষেও তারা ভোট দেবে না—সেই ভোট আমি ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতায় পাবো।
তিনি বলেন, “চা-বাগানের শ্রমিকরা আমাকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসে। গণঅভ্যুত্থানের পর সরকারি চা-বাগানের (এনটিসি) মজুরি বন্ধ ছিল। আমাকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়ায় তাদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেছি এবং করে যাবো। আমি কোনো দলীয় প্রার্থী নই। দলীয় প্রার্থী হলে দলের কথা বলতে বলতেই অনেক সময় চলে যেত। আমার মালিক এলাকার জনগণ। আমার সব কথা জনগণের জন্য। আপনারা আগেও দেখেছেন—আমি যখন পৌরসভার মেয়র ছিলাম, তখন শ্রীমঙ্গলকে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত করে একটি মডেল পৌরসভায় রূপান্তর করেছি।”
খোলা কাগজ : এমপি হলে কী কী করার পরিকল্পনা রয়েছে?
মহসিন মিয়া মধু : শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলা নিয়ে আমার বড় স্বপ্ন রয়েছে। জনগণের ভোটে আমি নির্বাচিত হলে দুই উপজেলার ব্যাপক উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে কাজ করবো। পাশাপাশি সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজমুক্ত এলাকা হিসেবে আমার নির্বাচনি আসনকে একটি মডেল আসনে পরিণত করবো, ইনশাআল্লাহ। বিশেষ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, পর্যটনের বিকাশ, ব্যবসাবান্ধব নিরাপদ শহর ও বৈষম্যহীন উপজেলা গঠনে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবো।
খোলা কাগজ : ভোটারদের প্রতি আপনার কোনো আহ্বান বা অনুরোধ আছে কি?
মহসিন মিয়া মধু : অবশ্যই আছে। শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের নাগরিকদের প্রতি আমার অনুরোধ—ভেবে-চিন্তে প্রার্থী নির্বাচন করে ভোট দেবেন। দীর্ঘদিন জনবিচ্ছিন্ন যে প্রার্থী অথবা নির্বাচনের আগেই যাদের নেতাকর্মীরা মামলা বাণিজ্য ও চাঁদাবাজিতে জড়িত, সেই প্রার্থীকে অবশ্যই বর্জন করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে সুখে-দুঃখে পাশে থাকা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করা প্রার্থীকে বাছাই করে ভোট দেবেন—এটাই আমার প্রত্যাশা। ভোটারদের মনে রাখতে হবে, যে প্রার্থী নির্বাচনের সময় শত উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেয় অথবা যে প্রার্থী শতকোটি টাকার ঋণখেলাপি, সে নির্বাচিত হলে উন্নয়ন করবে নাকি ঋণখেলাপ আরও বাড়াবে—সেটাও বিবেচনায় নিতে হবে।
আগামী ১২ তারিখ ফুটবল মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে মহসিন মিয়া মধু বলেন, “আমি কথা দিচ্ছি বিজয়ী হলে উন্নয়নের জন্য কাউকে আমার কাছে আসতে হবে না। আগামী পাঁচ বছর জান-মালের নিরাপত্তা ও ব্যাপক উন্নয়নের পাহারাদার হিসেবে নিজেকে নিয়োজিত রাখবো।”
তিনি আরও বলেন, “ফুটবল মার্কা কেবল একটি নির্বাচনি প্রতীক নয়; এটি শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের প্রতীক। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও দখলদারদের হাত থেকে এলাকাকে মুক্ত রাখতে এবং শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জবাসীর জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ফুটবল মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাই।”
খোলা কাগজ : আপনার নির্বাচনি ইশতেহার বা উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো কী?
মহসিন মিয়া মধু : শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ এমন একটি জনপদ, যেখানে মুসলিম, হিন্দু, মণিপুরি, খাসিয়া ও অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অনন্য মিলন ঘটেছে। এই বৈচিত্র্যই আমাদের শক্তি ও গর্ব। পর্যটন, চা-শিল্প, কৃষি ও মানবসম্পদের সঠিক ও পরিকল্পিত ব্যবহারের মাধ্যমে এই জনপদের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করাই আমার লক্ষ্য।
খোলা কাগজ : স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রক্রিয়া সম্পর্কে যদি বলতেন?
মহসিন মিয়া মধু : টেন্ডারবাজি ও দুর্নীতির প্রশ্নে আমি অত্যন্ত কঠোর। গত ২৫ বছর শ্রীমঙ্গলের পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। কেউ বলতে পারবে না যে আমি কখনো চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি বা অবৈধ কাজে জড়িত ছিলাম। সব টেন্ডার উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যোগ্যতার ভিত্তিতে দেওয়া হবে। আমি নিজে চাঁদাবাজি করিনি, ভবিষ্যতেও কাউকে এই সুযোগ দেবো না।
কেকে/এলএ