যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান শর্ত না মানলে ‘খুব কঠোর কিছু’ করা হবে বলে ফের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘হয় আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব, না হলে আমাদের খুব কঠোর কিছু করতে হবে।’
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এ সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়।
ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিক আল সাইদের সাথে বৈঠকের পর এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। গেল সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে হওয়া আলোচনার ফলাফল নিয়েই এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর কথা জোর দিয়ে বলেছেন ট্রাম্প।
তিনি জানান, ওই অঞ্চলের জলসীমায় একটি ‘বৃহৎ নৌবহর’ মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরীও পাঠানোর কথা ভাবছে। এতে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আশঙ্কা বাড়ছে।
জানুয়ারি থেকে ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি আবারও জোরদার করেছেন ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ‘প্রস্তুত ও প্রয়োজনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সক্ষম।’
গেল মাসে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের কাছে ৩টি প্রধান দাবি জানায়। এগুলো হল ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা, আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সীমা আরোপ করা।
ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেছিলেন। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ফের কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের চাপ বাড়িয়েছেন। তবে, ইরানের দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শুধু বেসামরিক জ্বালানি উৎপাদনের জন্য।
এদিকে, ইরানে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটেও উত্তেজনা বেড়েছে। বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অভিযানে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন অভিযোগ করেছে।
তবে, ইরান সরকার বলছে, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়েছিল এবং এতে বহু সদস্য নিহত হয়েছেন।
সূত্র : আলজাজিরা, চ্যানেল ১২, অ্যাক্সিওস
কেকে/এমএ