উৎসবমুখর পরিবেশে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এ নির্বাচনকে উপলক্ষ করে দেশজুড়ে উৎসবের আমেজ বইছে। প্রায় ১৭ বছর পর ভোট দিতে পারবে- এমন আনন্দ বিরাজ করছে দেশের মানুষের মধ্যে। এ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র ও মানুষের মৌলিক অধিকার ফিরে আসবে-এমন প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের। তবে, এ নির্বাচন উৎসবের রং ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকরা।
এ নির্বাচনকে বানচাল ও প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং ভোটাদেরকে ভোটেকেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত করতে নানা অপকৌশল গ্রহণ করেছে পতিত আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা। তারা বিভিন্ন ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ভোটারদেকে ভোট প্রদানে নিরুৎসাহিত করছে। তাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড ও অপতৎপরতায় উদ্বেগ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
সচেতন নাগরিক সমাজ বলছেন, ভোটকেন্দ্রে না যাওয়া ও ভোট না দেওয়ার মত কোন ঘটনা ঘটেনি। দেশে গণতন্ত্র ফেরাতে প্রতিটি ভোটারকে ভোট দিতে হবে।
নির্বাচনের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ‘নিরুৎসাহী/ভীতি সৃষ্টিকারী’বা ভুল‑ভাল বার্তা ছড়াতে ক্যাম্পেন দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে বিভ্রান্তিকর ভিডিও/ছবি ও মেসেজ নিয়ে।
ইউটিউব ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও, ফটোকার্ড, স্লোগান ইত্যাদির মাধ্যমের ভোটারদেরকে ভোটকেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগসহ এর সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের ফেসবুক পেজ থেকে প্রকাশ্যে চালানো হচ্ছে ‘নো ভোট’ ক্যাম্পেইন। আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসরদের ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্ট থেকেও চালানো হচ্ছে এ ক্যাম্পেইন।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা মহানগর আদালতের সামনে আওয়ামীপন্থি একদল আইনজীবী ‘নো বোট, নো ভোট স্লোগান দিয়ে হইচই করেন। এ সময় স্লোগান দেন অ্যাডভোকেট মো. গোলাম রাব্বানী ও অ্যাডভোকেট প্রতাপ বাড়ৈসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে দেখা গেছে, ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার ক্যাম্পেইন চালানোর জন্য তারা অন্যদেরকেও প্রভাবিত করছে, আহ্বান জানাচ্ছে। এসব ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ জনতা।
এ বিষয়ে সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সদস্য ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি আখতার কবির চৌধুরী বলেন, ‘এটা একটা প্রপাগন্ডা, অপপ্রচারণার অংশ। এটা নোংরামি। ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার মত কিছুই ঘটেনি। মানুষ কেন ভোটকেন্দ্রে যাবে না। মানুষ তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে।’
এ দিকে, নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ভোট কেন্দ্র পর্যন্ত নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে সেনা, বিজিবি, আনসার-ভিডিপি ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পাশাপাশি, ‘ভোট দিতে ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই’ বলে জোর দিয়েছেন সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
নির্বাচনকে ঘিরে দেশের মানুষের উৎসাহ ও গণতান্ত্রিক প্রত্যাশা শক্তিশালী। কিন্তু, ‘নো ভোট’প্রচারণার মাধ্যমে বিভ্রান্তি ও ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার নিশ্চিত করেছে- ভোটকেন্দ্র নিরাপদ ও প্রতিটি ভোটারের অংশগ্রহণই গণতন্ত্রের জয় নিশ্চিত করবে।
কেকে/এমএ