ভেড়ামারায় বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব চরম আকার ধারণ করায় শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একদিনে কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে ৩৫ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সারাদিনে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স–এ এসব আহত ব্যক্তি চিকিৎসা নেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কুকুরের উপদ্রব বাড়লেও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভেড়ামারা সরকারি কলেজ, ভেড়ামারা সরকারি মহিলা কলেজ, ভেড়ামারা সরকারি গার্লস স্কুল, মধ্যবাজার, রেলবাজার, পৌরসভা-হাসপাতাল সড়ক ও পৌরবাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দলবেঁধে বেওয়ারিশ কুকুর ঘোরাফেরা করছে। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে কুকুরের উপস্থিতি বেশি থাকায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে।
শিক্ষার্থী আয়ান বলেন, “প্রায়ই ১০-১২টি কুকুর একসঙ্গে রাস্তায় থাকে। কাছে গেলেই তেড়ে আসে, খুব ভয় লাগে।”
অভিভাবক জিনাত ফাতেমা বলেন, “ছেলেকে স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগে। একদিন রাস্তায় কুকুরের ভয়ে সে অন্য বাড়িতে গিয়ে ফোন করেছে, পরে গিয়ে তাকে নিয়ে আসতে হয়েছে। আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি।”
শিক্ষক আরিফুল ইসলাম জানান, প্রায়ই শিক্ষার্থীদের ওপর কুকুরের আক্রমণের ঘটনা ঘটছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
আরেক অভিভাবক মামুনুর রশীদ বলেন, “সন্তানকে স্কুলে পাঠালেই টেনশনে থাকতে হয়। এতে মানসিক ভোগান্তি বাড়ছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
স্থানীয়রা জানান, বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। একই সঙ্গে টিকাদান, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানবিক উপায়ে কুকুর নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
কেকে/এমএফ