রমজান মাস ঘনিয়ে আসায় দেশজুড়ে মুসলমানদের মধ্যে প্রস্তুতির আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে; মসজিদ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ইবাদতের পরিকল্পনা ও বাজারে কেনাকাটার ব্যস্ততা দিন দিন বাড়ছে। রমজান মাস ঘনিয়ে আসায় দেশজুড়ে মুসলমানদের মধ্যে প্রস্তুতির আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে; মসজিদ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ইবাদতের পরিকল্পনা ও বাজারে কেনাকাটার ব্যস্ততা দিন দিন বাড়ছে।
বাংলাদেশ পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা ও গ্রামে মসজিদ ধোয়া-মোছা, আলোকসজ্জা, মাইকের শব্দব্যবস্থা পরীক্ষা এবং তারাবির নামাজের সময়সূচি নির্ধারণের কাজ চলছে। ইমাম ও মুসল্লিদের বৈঠকে খতমে তারাবির আয়োজন, কোরআন তিলাওয়াত মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠানের পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে।
ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইতিমধ্যে নিজেদের দৈনন্দিন রুটিনে পরিবর্তন আনতে শুরু করেছেন। অনেকেই নফল রোজা রাখা, ফজর নামাজে জামাতে অংশ নেওয়া, কোরআন তিলাওয়াত বাড়ানো এবং গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিভিন্ন মাদ্রাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে রমজানকেন্দ্রিক বয়ান, তাফসির মাহফিল ও দারসের সূচি প্রকাশ করা হয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ জানিয়েছে, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে কয়েক দিনের মধ্যেই রোজা শুরু হতে পারে। এ উপলক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং দেশব্যাপী জেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের আকাশে শাবান মাসের চাঁদ ১৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সে ক্ষেত্রে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রথম রোজা শুরু হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণার ওপর; চাঁদ না দেখা গেলে একদিন পর অর্থাৎ ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজা শুরু হবে।
বাজারে ইতোমধ্যে রমজানের আমেজ স্পষ্ট। খেজুর, ছোলা, বুট, ডাল, চিনি, দুধ, সেমাই ও ভোজ্যতেলের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানি ও মজুত বাড়ানো হয়েছে। খুচরা বিক্রেতাদের মতে, অনেক পরিবার আগেভাগেই এক সপ্তাহ বা পুরো মাসের প্রয়োজনীয় পণ্য কিনে রাখছেন। ইফতার সামগ্রীর দোকানগুলোতেও প্রস্তুতি শুরু হয়েছে—বেগুনি, পেঁয়াজু, জিলাপি ও হালিমের উপকরণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
গৃহস্থালিতেও চলছে আলাদা প্রস্তুতি। পরিবারগুলো রান্নাঘরের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গোছাচ্ছে, ফ্রিজ পরিষ্কার করছে এবং ইফতার ও সেহরির সম্ভাব্য মেনু নির্ধারণ করছে। অনেকেই রমজানকে ঘিরে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ইফতার আয়োজনের পরিকল্পনাও করছেন।
ধর্মীয় আলেমরা বলছেন, রমজান শুধু উপবাসের মাস নয়—এটি আত্মসংযম, ধৈর্য, সহমর্মিতা ও আত্মশুদ্ধির মাস। এ মাসে দান-সদকা, যাকাত ও ফিতরা আদায়ের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তারা মুসলমানদের অপচয় পরিহার, নৈতিকতা চর্চা ও সমাজে শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে চাঁদ দেখার অপেক্ষায় এখন ধর্মীয় আবহে মুখর পুরো দেশ; পবিত্র রমজানকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত মুসলমানরা।
কেকে/এমএফ