পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হলেন ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনের নবনির্বাচিত সাংসদ শামা ওবায়েদ ইসলাম রিঙ্কু। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সাংসদ নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রীত্ব পেলেন শামা ওবায়েদ। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের (ফরিদপুর) দায়িত্বেও রয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) তিনি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ পাঠ করেন। বিএনপির সাবেক মহাসচিব মরহুম কেএম ওবায়দুর রহমানের উত্তরসূরী শামা ওবায়েদ।
তিনি ফরিদপুর-২ আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। ফরিদপুরের আঞ্চলিক রাজনীতিতে বাবার জনপ্রিয়তার ধারাবাহিকতাকে নিজের সাংগঠনিক দক্ষতার মাধ্যমে আরও সুসংহত করেন শামা। পেশা রাজনীতি ও ব্যবসায়।
শামা ওবায়েদ ইসলাম রিঙ্কু ১৯৭৩ সালের ১৪ মে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে জন্ম নেন। তার বাবা কেএম ওবায়দুর রহমান ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য হয়ে পরে মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন। পরে ১৯৭৯ ও ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। ১৯৭৯ সালে নির্বাচিত হয়ে তিনি শহীদ জিয়ার সরকারে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে ওবায়দুর রহমান বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি ২০০৭ সালে মার্চ মাসে মারা যান।
শামা ওবায়েদ ইসলাম রাজধানীর ঢাকার ভিকারুননিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে শিক্ষা শুরু করেন। পরে তিনি ভিকারুননিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করেন। এরপর উচ্চ শিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অভিবাসী হন। সেখানকার স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। দীর্ঘ ছয় বছর যুক্তরাষ্ট্রে একটি বেসরকারি কম্পানিতে চাকরি করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে শামা ওবায়েদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি মাজহারুল ইসলামের ছেলে শোভন ইসলামকে বিয়ে করেন। এ দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
২০০৮ সালে ফরিদপুর আসন-২ থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পান শামা। কিন্তু আওয়ামী লীগ নেত্রী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর কাছে হেরে হন। ২০১৮ সালেও বিএনপির প্রার্থী ছিলেন শামা। কিন্তু ভোটে পরাজিত হন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনে ফরিদপুর-২ () আসন থেকে তিনি ১ লাখ ২১ হাজার ৬৯৪ ভোট পেয়ে সাংসদ নির্বাচিত হন শামা ওবায়েদ। তিনি তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শাহ আকরাম আলীর চেয়ে ৩২ হাজার ৩৮৯ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন।
শামা ওবায়েদ তার নির্বাচনি এলাকায় দুঃসময়ে জনগণের পাশে থেকেছেন। সেই কারণে মানুষের ভালোবাসায় তিনি বিপুল ভোটে সাংসদ নির্বাচিত হন। শামা মন্ত্রীত্ব পাওয়ায় তার নির্বাচনি এলাকার দুই উপজেলার বিএনপির নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ আনন্দের জোয়ারে ভাসছেন।
তারা বলছেন, শামাকে মন্ত্রীত্ব দিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যন তারেক রহমান এ এলাকার ভোটারদের সম্মানিত করেছেন। পাশাপাশি শামাকে মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি দিয়েছেন।
কেকে/এমএ