অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদকে নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন ওই সরকারের প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার। দায়িত্ব পালনের সময় মাহবুব মোর্শেদের কাছে কোনো সহযোগিতা পাননি বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এ দিকে, মাহবুব মোর্শেদকে বাসস থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তিনি নিজেও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ওই ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) আজাদ মজুমদার লিখেছেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের যত নিয়োগ ছিল, তার মধ্যে সবচেয়ে অযোগ্য ছিল মাহাবুব মোর্শেদ। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ে দায়িত্ব পালনকালে তার কোনো সহযোগিতাই পাইনি। একবার তো গুমের রিপোর্টই সে গুম করে দিয়েছে। যে রিপোর্টার এই রিপোর্ট করেছে, তাকে অবর্ণনীয় হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘মাহাবুব মোর্শেদকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বহুবার আলোচনা হয়েছে। শুধু একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির প্রিয়পাত্র হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। তার নিয়োগটি বাতিলযোগ্য ছিল। তাকে বিদায় করার জন্য গা-জোয়ারির বিষয়টি সমর্থনযোগ্য নয়।’
বাসসের প্রধান বার্তা সম্পাদক মো. মানিকুল আজাদ বলেন, ‘কর্মীদের সাথে খারাপ আচরণের কারণে অনেক দিন ধরেই তার ওপর ক্ষোভ বিরাজ করছিল। সব নিয়ন্ত্রণ তার হাতে রাখতেন, কাউকে সম্মান দিতেন না। কেউ কিছু বলতে গেলেই তাকে বদলি করে দিতেন। সব মিলিয়ে ক্ষোভের একটা বিস্ফোরণ হয়েছে।’
তবে, অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাহবুব মোর্শেদ। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এই পরিস্থিতির জন্য বিএনপিকে দায়ী করেন।
বুধবার ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমাকে এই পদে না রাখতে চাইতেই পারেন। চুক্তি বাতিল ও অপসারণের নানা স্বীকৃত পদ্ধতি আছে। সেসব দিকে না গিয়ে অফিসে মব সৃষ্টি করে, হামলা করে, তালা দিয়ে সরাতে চাইছেন কেন?’
গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট ২ বছরের চুক্তিতে মাহবুব মোর্শেদকে বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ দেয় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার।
সূত্র : বিবিসি বাংলা।
কেকে/এমএ