সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬,
২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী      ৪১৬ বছরপূর্তিতে বর্ণিল ‘ঢাকা উৎসব’, উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী      ১৫ জুলাই সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণের নির্দেশ      সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী      আগামী ৫ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানো হবে: প্রধানমন্ত্রী      দীর্ঘ হচ্ছে হামে মৃত্যুর মিছিল      ডুবল ঢাকা ভুগল মানুষ      
দেশজুড়ে
মৌলভীবাজারে অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার
নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার
প্রকাশ: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০৪ পিএম আপডেট: ২০.০২.২০২৬ ১১:২৩ পিএম
ছবি: প্রতিবেদক

ছবি: প্রতিবেদক

ভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর পেরিয়ে গেলেও মৌলভীবাজার জেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আজও নির্মিত হয়নি কোনো স্থায়ী শহীদ মিনার। ফলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে হাজার হাজার শিক্ষার্থী। সচেতন মহলের আশঙ্কা, শিক্ষা জীবনেই শ্রদ্ধা নিবেদনের সুযোগ না পেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ভাষা আন্দোলনের চেতনা ও দেশপ্রেম থেকে বিমুখ হতে পারে।

মৌলভীবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় মোট ১ হাজার ৫১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৪৪৮টিতে শহীদ মিনার থাকলেও ৬০৩টি বিদ্যালয়ে স্থায়ী শহীদ মিনার নেই। একই চিত্র জেলার মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। 

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শহীদ মিনার না থাকায় ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে যদি বাধাগ্রস্ত হয় তাহলে আগামী প্রজন্ম শহীদদের সম্মান করতে ভুলে যাবে, যা ভাষা শহীদদের জন্য অসম্মানজনক বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার এসব প্রতিষ্ঠানে ২১ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে অস্থায়ী কাঠামো তৈরি করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এতে ভাষা আন্দোলনের চেতনা শিক্ষার্থীদের মাঝে যথাযথভাবে তুলে ধরতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

শিক্ষার্থীরা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের স্কুলে শহীদ মিনার না থাকায় একুশে ফেব্রুয়ারিতে আমরা ফুল দিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে পারি না। আমাদের দাবি, প্রতিটি স্কুলে যেন দ্রুত শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, শহীদ মিনার না থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে কলাগাছ, বাঁশ ও কাগজ দিয়ে প্রতীকী মিনার নির্মাণ করে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণ করা হয়। আবার কিছু শিক্ষার্থী অন্য প্রতিষ্ঠানের শহীদ মিনারে গিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

শিক্ষক ও অভিভাবকদের দাবি, ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি ও চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে দ্রুত সব বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হোক।

বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি কল্যাণ দেব জীবন বলেন, শহীদ মিনার শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি আমাদের আত্মপরিচয়ের প্রতীক। শিক্ষার্থীরা যদি নিজ বিদ্যালয়েই শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে পারে, তাহলে তাদের মধ্যে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও চেতনা আরও গভীরভাবে গড়ে উঠবে।

কমলগঞ্জ উসমানগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাবেরি দে জানান, তাদের বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শহীদ মিনার নেই। আবেদন করা হলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা হয়নি। একটি স্থায়ী শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সফিউল আলম বলেন, জেলার প্রায় অধিকাংশ বিদ্যালয়ে স্থায়ী শহীদ মিনার নেই। এ বিষয়ে নতুন সরকারের কাছে প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ তৈরির প্রস্তাব পাঠানে হবে।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close