বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেছেন, ‘নরসুন্দা নদী কিশোরগঞ্জের প্রাণ। এই প্রাণকে বাঁচাতে কোনো আপস হবে না। নদী দখলকারী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। দ্রুত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে এই নদীকে তার স্বাভাবিক গতিতে ফিরিয়ে আনা হবে।’
রোববার (১ মার্চ) দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
সভায় শরীফুল আলম আরও বলেন, ‘যারা নদীর জায়গা দখল করে আছেন, তাদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। এই তালিকার ভিত্তিতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। যারা এখন নদী দখল করে অবৈধভাবে বড় দালান নির্মাণ করেছেন তাদেরকে অবিলম্বে সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে প্রশাসনকে।’
তিনি বলেন, ‘দরিদ্র মানুষের কাছে ন্যায্যমূল্যে নিত্যপণ্য বিক্রি করার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় পাঁচটি ট্রাকে করে টিসিবির পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। তাছাড়া নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে, যেন অসাধু ব্যবসায়ীরা কোনো জিনিসপত্রের দাম বাড়াতে না পারে।’
সভায় কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ জালাল উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ ফজলুর রহমান, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা ও পুলিশ সুপার এসএম ফরহাদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
বিকালে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের বড়বাজার পরিদর্শনে যান প্রতিমন্ত্রী। এ সময় ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন।
বাজার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ে মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করতে সারাদেশে বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। বাজার যেন জনগণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকে, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। কেউ যাতে অযৌক্তিকভাবে মূল্য বাড়িয়ে সুযোগ নিতে না পারেন, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
‘সারাদেশে পর্যায়ক্রমে আমরা সফর করছি। বাজার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পাশাপাশি টিসিবির একাধিক টিম মাঠে সক্রিয় রয়েছে। তারা নিয়মিত অভিযান ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।’
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব প্রসঙ্গে শরীফুল আলম বলেন, ‘জ্বালানি নির্ভর বৈশ্বিক বাজারে কিছুটা প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকলেও সরকার এ বিষয়ে সজাগ রয়েছে। সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত আছে।’
কেকে/এসএ