হাজারো মানুষের প্রাণের বিনিময়ে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরেছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, ‘শহীদদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে অর্থনীতিতে স্বাবলম্বী হয়ে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে হবে।’
আজ শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে ঢাকার ওসমানী মিলনায়তনে জাতীয় পাট দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। দীর্ঘদিন পর কোনো রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববাজারে পাটজাত পণ্যের চাহিদা পূরণে আরও আধুনিক ও বৈচিত্র্য আনার উপর জোর দেন রাষ্ট্রপতি।
চাষিদের পাট চাষের আহ্বান জানিয়ে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘আপনারা উন্নত প্রযুক্তির উচ্চ ফলনশীল চাষ পদ্ধতি অনুসরণ করুন।’
উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নিত্য নতুন আধুনিক মানসম্মত ও ব্যবহার উপযোগী স্বাস্থ্য পণ্য উদ্ভাবনে এগিয়ে আসুন। অল্পমূল্যে পাটের ব্যাগ তৈরি ও বিপণন করুন। সৃজনশীল তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান থাকবে, স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে মেড ইন বাংলাদেশ ব্যান্ডিং ও বৈশ্বিক ইকমার্স প্লাটফর্মে যুক্ত হয়ে নতুন উন্মোচন করুন।’
তিনি বলেন, ‘পাট বাংলাদেশের সমাজ, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও গৌরবের অংশ। অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি এই পাট। পাট একাধারে পণ্য, আবার শিল্পজাত ও রফতানি পণ্য। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ এবং পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যাপক ক্ষতিকর প্রভাবের প্রেক্ষাপটে বাস্তবতায় পরিবেশবান্ধব পণ্য হিসাবে পাটের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়েছে।’
‘বিশ্ব এখন টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পণ্যের দিকে ঝুঁকছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় পাট ও পাটজাত পণ্য বাংলাদেশের সামনে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত করে দিয়েছে। এই সুবর্ণ সুযোগকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে।’
এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরিতে খাত ভিত্তিক কর্মসংস্থান তৈরি সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার জনগণের পাশেই আছে। দায়িত্ব গ্রহণের ১০ দিনের মাথায় কৃষি ঋণ মওকুফ সরকারের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। গণতান্ত্রিক সরকারের প্রথম ও প্রধান অগ্রাধিকার কর্মসংস্থান তৈরি, তাই এক কোটি মানুষকে কর্মসংস্থানের সুযোগ করবে সরকার।’
এর পূর্বে, অনুষ্ঠানে পাট শিল্পে অবদান রাখায় ১২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেন তিনি। পুরস্কার পাওয়া ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, আবারও ঘুরে দাঁড়াবে পাট শিল্প।
এরপর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ৯ দিনব্যাপী পাট ও বহুমুখী পাট পণ্যের মেলার উদ্বোধন করেন মো. সাহাবুদ্দিন।
কেকে/এমএ