মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
জাতীয়
ফয়সালকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া কী?
খোলা কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ৮ মার্চ, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম আপডেট: ০৮.০৩.২০২৬ ১০:০৫ পিএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বহুল আলোচিত ওসমান হাদি খুনের প্রধান অসামি ফয়সাল করিম মাসুদ সহযোগী আলমগীরসহ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের ১৪ দিনের রিমান্ডও মঞ্জুর করেছেন আদালত। বহুল আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে কীভাবে ফেরত আনা যাবে, তা নিয়ে চলছে আলোচনা।

আজ রোববার (৮ মার্চ) সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানায়। 

শনিবার (৭ মার্চ) রাতে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বনগাঁও থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে ভারতীয় পুলিশ।

দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ে কার্যক্রমের মাধ্যমে ভারতে গ্রেপ্তার ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে ফিরিয়ে আনা যাবে বলে জানায় বাংলাদেশ পুলিশ সদরদপ্তর সূত্র।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা দেশের একটি অনলাইন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ফিরিয়ে আনার বিষয়টি দুই দেশের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিষয়। দুই দেশের এই দুই মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে কোন প্রক্রিয়ায় কীভাবে ফিরিয়ে আনা যায়।’

তিনি বলেন, ‘যেহেতু হাদি হত্যাকাণ্ড একটি আলোচিত বিষয়। সেক্ষেত্রে ভারত আসামি ফেরত দিতে পারে।’

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এসএন মো. নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এ ব্যাপারে অফিসিয়ালি আমাদের এখনো কনফার্ম করেনি। আমরা খোঁজ-খবর রাখছি।’

ডিএমপির কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। এখন যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অফিসিয়ালি বিষয়টি জানার চেষ্টা করছি।’

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্দি হস্তান্তরের আলোচিত ঘটনাটি ২০১৫ সালের। প্রায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে হস্তান্তর করা হয় অনুপ চেটিয়া ও নূর হোসেনকে। দুইটি ঘটনাই ঘটে ঢাকা-নয়াদিল্লির মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি সইয়ের আড়াই বছর পর। 

দুই দেশের মধ্যে হওয়া চুক্তির তথ্য আছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ওয়েবসাইটে। চুক্তির একটি অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয় ২০১৬ সালের জুলাইয়ে। ২০১৩ সালের চুক্তিতে অনুচ্ছেদ আছে ১২টি। এর মধ্যে ১ ও ২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বিচারিক কর্তৃপক্ষের দ্বারা বিচারাধীন, অভিযুক্ত, দোষী সাব্যস্ত বা দণ্ড কার্যকরের জন্য যাদের খোঁজ চলছে, সেই ব্যক্তিদের রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে পাওয়া গেলে প্রত্যর্পণ করতে হবে। তবে অপরাধটি হতে হবে রাষ্ট্রের আইনে ন্যূনতম এক বছরের কারাদণ্ডযোগ্য।

চুক্তির প্রয়োগ কোন ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হবে তা উল্লেখ আছে অনুচ্ছেদ ৬-এ। বলা হয়েছে, যদি কোনো অপরাধের ধরন রাজনৈতিক বলে বিবেচিত হয় তাহলে প্রত্যর্পণের অনুরোধ গ্রহণ নাও হতে পারে। তবে হত্যা, হত্যার প্ররোচনা, অপহরণ, বেআইনিভাবে জিম্মি করাসহ ১৩ ধরনের অপরাধ রাজনৈতিক হিসেবে বিবেচিত হবে না।

প্রত্যর্পণ না করার ভিত্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে অনুচ্ছেদ ৮-এ। যাকে ফেরত চাওয়া হবে তিনি যদি অপরাধের মাত্রা, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সময় কিংবা অভিযোগটি ন্যায়বিচারের স্বার্থে আনা হয়নি- এসব বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেন তাহলে আশ্রয় দেওয়া রাষ্ট্র প্রত্যর্পণ করতে বাধ্য নয়।

জুলাই অভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গেল ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের সময় বিজয়নগর এলাকায় গিয়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করেন চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা আততায়ী। গুরুতর আহত হাদিকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করার পর রাতেই তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর দুই দিন পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে হাদিকে নিয়ে যাওয়া হয় সিঙ্গাপুরে। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর গেল ১৮ ডিসেম্বর হাদির মৃত্যুর খবর আসে।

হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গেল ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটিতে হত্যার ৩০২ ধারা যুক্ত হয়। এরপর থানা পুলিশের হাত ঘুরে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিবি পুলিশকে।


তদন্ত শেষে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি ও সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে গেল ৬ জানুয়ারি হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ।

অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ (৩৭), তার বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০), মা হাসি বেগম (৬০), স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া (২৪), শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু (২৭), বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা (২১), মো. কবির (৩৩), মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল (৩৪), ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগ থাকা সিবিয়ন দিউ (৩২), সঞ্জয় চিসিম (২৩), মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু (৩৭) ও হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র-গুলি উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. ফয়সাল (২৫), মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলমগীর শেখ (২৬), সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী ফিলিপ স্নাল (৩২), মুক্তি মাহমুদ (৫১) ও জেসমিন আক্তার (৪২)। তাদের মধ্যে শেষের তিনজন পলাতক।

হাদি হত্যা মামলায় ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে গেল ৬ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দেয় ডিবি পুলিশ। কিন্তু অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট নয় ইনকিলাব মঞ্চ। মামলাটি বর্তমানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত করছে।

গেল ১২ জানুয়ারি মামলাটি শুনানির জন্য ছিল। মামলার বাদী আবদুল্লাহ আল জাবের সেদিন অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য দুই দিন সময় চান। আদালত তা মঞ্জুর করে ১৫ জানুয়ারি অভিযোগপত্র গ্রহণের দিন ঠিক করেন।‎ সেদিন ডিবি পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে নারাজি দাখিল করেন আবদুল্লাহ আল জাবের। পরে আদালত মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং বিভিন্ন সময়ে হাদির দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে বোঝা গেছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়।’

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  ফয়সাল   ভারত   আনার প্রক্রিয়া  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close