সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬,
২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী      ৪১৬ বছরপূর্তিতে বর্ণিল ‘ঢাকা উৎসব’, উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী      ১৫ জুলাই সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণের নির্দেশ      সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী      আগামী ৫ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানো হবে: প্রধানমন্ত্রী      দীর্ঘ হচ্ছে হামে মৃত্যুর মিছিল      ডুবল ঢাকা ভুগল মানুষ      
অর্থনীতি
যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশে আরও বাড়তে পারে মূল্যস্ফীতি
খোলা কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান মূল্য। গেল ৪ মাস ধরে ক্রমাগত বেড়ে মূল্যস্ফীতি এখন ১০ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এটি নতুন সরকারের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নরের সুদের হার কমানোর পরিকল্পনাকে জটিল করে তুলছে।

আমদানি করা তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল বাংলাদেশে গেল ফেব্রুয়ারিতে ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। এর মূল চালিকাশক্তি ছিল খাদ্যপণ্যের মূল্য, তবে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের ব্যয়ও বেড়েছে।

সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো অস্থিরতা, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের বিঘ্ন বিশ্ববাজারে তেল ও এলএনজির দাম দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে। বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি আবারও ৯ শতাংশের ঘর ছাড়িয়েছে। ইরানের সংকট এই চাপকে আরও তীব্র করবে।’


বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল প্রতি ব্যারেল প্রায় ১০০ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। জ্বালানি খরচ বাড়লে তার প্রভাব পরিবহন, বিদ্যুৎ ও উৎপাদন খরচের ওপর পড়ে, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদেরই বইতে হয়। 

সেলিম রায়হান আরও বলেন, ‘মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং খাদ্যবাজারে অস্থিরতার কারণে এই মূল্যস্ফীতি এখন দীর্ঘস্থায়ী সংকটে রূপ নিয়েছে।’

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ঢাকা বিকল্প উৎসের সন্ধান করছে। সম্প্রতি ভারত ও চীনের কাছে ডিজেল আমদানির অনুরোধ জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) চীনের ‘ইউনিপেক’ থেকে ডিজেলের তিনটি কার্গো পাওয়ার অপেক্ষায় আছে। 

এছাড়া, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশেষ ছাড় (ওয়েইভার) চাওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ রেখে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের চেষ্টা করছে সরকার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সতর্ক করেছেন, যুদ্ধের কারণে প্রবাসী শ্রমিকরা কর্মসংস্থান হারালে রেমিট্যান্স কমে গিয়ে অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি, ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার পুনরায় কমতে শুরু করেছে (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা), যা আমদানি করা পণ্য ও কাঁচামালের দাম আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

অর্থনীতিবিদ জিয়া হাসান মনে করেন, মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের উপরে থাকায় সুদের হার কমানোর সুযোগ নেই। 

তার মতে, মুদ্রানীতি শিথিল করলে মুদ্রার বিনিময় হারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। বিশ্ববাজারে অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের সামনে উচ্চ আমদানিব্যয় ও ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মতো কঠিন চ্যালেঞ্জ আসতে পারে।

সূত্র : নিক্কেই এশিয়া

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  যুদ্ধের প্রভাব   বাংলাদেশ   বাড়তে পারে মূল্যস্ফীতি   
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

অর্থনীতি- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close