ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের উর্ধ্বমুখী মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বড় উদ্যোগ নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। তাদের জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, কৌশলগত তেল মজুদ থেকে ছাড় দেওয়া প্রথম চালান চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে বাজারে পৌঁছাবে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৩ মার্চ) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে মার্কিন জ্বালানি বিভাগ। এর আগে ওয়াশিংটন চলতি সপ্তাহের শুরুতে মোট ১৭২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ার যে ঘোষণা দেন ট্রাম্প, তার মধ্য থেকে ৮৬ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বিনিময়ের জন্য ইতোমধ্যে অনুরোধ জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে বিভাগটি নিশ্চিত করেছে, এই তেল সরবরাহের ফলে মার্কিন করদাতাদের কোনো অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ আইইএ-এর ৩২টি সদস্য দেশের (যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, জার্মানি, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্স অন্তর্ভুক্ত) সম্মিলিত প্রচেষ্টার অংশ। এই দেশগুলো তাদের জরুরি মজুত থেকে মোট ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়বে, যা সংস্থাটির ইতিহাসে এ ধরনের বৃহত্তম পদক্ষেপ।
২০২২ সালে বাইডেন প্রশাসন রিজার্ভ ব্যবহার করায় দীর্ঘ কয়েক বছর তার সমালোচনা করেছিলেন ট্রাম্প।
তবে বুধবার কেনটাকিতে এক সমাবেশে তিনি আইইএ-এর এই প্রচেষ্টার প্রশংসা করে বলেন, ‘আমেরিকা ও বিশ্বের ওপর আসা এই হুমকি মোকাবিলা করার পাশাপাশি এটি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনবে।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমরা কাজ শেষ না করে মাঝপথে ফিরতে চাই না, তাই না? আমাদের কাজ শেষ করতে হবে।’
এর আগে বুধবার বিকালে অভ্যন্তরীণ বিষয়ক সচিব ডগ বারগাম জানিয়েছিলেন, ট্রাম্প এই আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় যোগ দেবেন কি না সে বিষয়ে তখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।
টেক্সাস ও লুইজিয়ানার ভূগর্ভে সংরক্ষিত এই রিজার্ভ ব্যবহারের বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসন প্রথমে নাকচ করে দিয়েছিল। কিন্তু হরমুজ প্রণালিতে তেলের ট্যাঙ্কারে ইরানি হামলার কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, কারণ জাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্যের তেলক্ষেত্র থেকে বিশ্ববাজারে যাওয়ার মূল পথটি ব্যবহার করা বন্ধ করে দিয়েছে।
কেকে/এলএ