গাজীপুর জেলায় ধাপে ধাপে কারখানা ছুটি শুরু হওয়ায় ঢাকা-ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহন ও যাত্রীর চাপ বাড়তে শুরু করেছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকাল ৫টা থেকে মহাসড়কে এমন চিত্র দেখা গেছে।
রাত নাগাদ এই চাপ আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) খলিলুর রহমান জানান, গতকাল সোমবার (১৬ মার্চ) ৬২টি এবং আজ মঙ্গলবার ৪৪৪টি শিল্প কারখানায় ছুটি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আগামীকাল বুধবার (১৮ মার্চ) ১ হাজার ৪১৪টি এবং বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ৮৩৩টি কারখানায় ছুটি হবে। তবে, ৮১টি কারখানা আংশিক খোলা থাকবে।
বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বাসন সড়ক এলাকায় দেখা যায়, ছুটির পর শ্রমিকরা বাসের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কারখানা ছুটি বাড়ায় মহাসড়কে যাত্রীচাপও বাড়ছে।
কলম্বিয়া পোশাক কারখানা শ্রমিক মশিউর রহমান জানান, আমি ময়মনসিংহে গ্রামের বাড়ী যাবো। আগে থেকে টিকিট কাটা ছিলোনা। এখন বাসে উঠার চেষ্টা করছি।
হেমস পোশাক কারখানা শ্রমিক শাহনাজ পারভীন বলেন, ‘দুপুর ১২ টায় কারখানা ছুটি হইছে। ছুটির পর বাসায় গিয়ে ব্যাগ আনতে গিয়েছিলাম। আমরা তিনজন একসাথে। বাসের জন্য অপেক্ষা করছি। সড়কে বাস একেবারে কম।’
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা এলাকায় উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিকাল ৩টার পর থেকে যাত্রীদের ঢল আরও বেড়েছে। উত্তরবঙ্গের ঘরমুখো মানুষ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের জন্য ব্যাগ-বস্তা নিয়ে রওনা হয়েছেন।
নাওজোর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওগাত উল আলম জানান, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীচাপ বাড়ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। মহাসড়কে নিরাপত্তা জোরদারে ৬টি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে এবং ৪টি মোবাইল টিম সার্বক্ষণিক টহলে রয়েছে।
বিকাল সাড়ে চারটার দিকে মাওনা হাইওয়ে ওসি কামরুজ্জামান বলেন, ‘পোশাক কারখানার ছুটি হওয়ায় ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কে হঠাৎ চাপ বেড়ে গেছে।’
গাজীপুর শিল্প পুলিশের এসপি আমজাদ হোসেন বলেন, ‘জেলার মোট ২ হাজার ৮৩৪টি কারখানার মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ১০ শতাংশ কারখানায় মার্চ মাসের আংশিক বেতন দেওয়া হয়েছে।’
কেকে/এমএ