ঈদুল ফিতর মুসলমানদের জন্য এক আনন্দের দিন। রমজানে যেমন একজন মুসলমান তার জীবন ইসলামিক বিধান অনুযায়ী পরিচালিত করে, তেমনি ঈদের পরও একজন মুসলমানকে তার জীবন ইসলামের বিধান অনুযায়ী পরিচালিত করতে হবে।
নিচে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ঈদের পরবর্তী করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো:
ঈদুল ফিতরের পরবর্তী করণীয় কাজসমূহ
১. নিয়মিত ইবাদত অব্যাহত রাখা:
রমজান মাসে আমরা যেভাবে নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত ও অন্যান্য ইবাদতে মনোনিবেশ করেছিলাম, তা ঈদের পরও অব্যাহত রাখা উচিত।
আল্লাহ তাআলা বলেন: তোমার প্রতিপালকের ইবাদত কর, যতক্ষণ না নিশ্চিত জিনিস (মৃত্যু) তোমার কাছে আসে। (সূরা আল-হিজর: ৯৯)
২. ছয় রোজা রাখা (শাওয়ালের ছয় রোজা):
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল, অতঃপর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন সারা বছর রোজা রাখল।(সহিহ মুসলিম: ১১৬৪)
৩. সৎ কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা:
রমজানে দান-সদকা, ভালো কাজ, আত্মসংযম ও অন্যদের প্রতি সদাচরণ যে অভ্যাস গড়ে উঠেছে, তা ঈদের পরও বজায় রাখা উচিত।
৪. অহংকার ও অপব্যয় পরিহার করা:
ঈদের আনন্দ উপলক্ষে কেউ যেন অহংকার বা অপব্যয়ে লিপ্ত না হয়। আল্লাহ বলেন: অপচয় করো না। নিশ্চয় অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই। (সূরা আল-ইসরা: ২৬-২৭)
৫. পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা:
ঈদের সময় যেমন আত্মীয় স্বজনের খোঁজ খবর নেওয়া হয় তেমনি ঈদের পরও আত্মীয়তার বন্ধন জোরদার করা উচিত। কারণ আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (সহিহ বুখারি: ৫৯৮৪, সহিহ মুসলিম: ২৫৫৬)
কেকে/ এমএস