নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় শ্যালো ইঞ্জিনচালিত গাড়ি (ভটভটি), ভ্যান ও চার্জার ভ্যানের ত্রিমুখী সংঘর্ষে একজন নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শিশুসহ আরো ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার পাড়ইল ইউনিয়নের ধানসুরা রোডের সাবিলপুর-জিনারপুর মোড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনায় নিহত নারী নুরেফা (৪৫) উপজেলার পাড়ইল ইউনিয়নের উমরইল গ্রামের মৃত হারুনুর রশিদের স্ত্রী।
আহত ছয়জনকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে পাঁচজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন—উপজেলার পাড়ইল ইউনিয়নের গাংগোর এলাকার বরির স্ত্রী আরমারতুন (২৮), আককাসের পুত্র বাবু (৩২) এবং একই ইউনিয়নের উমরইল গ্রামের নুর আলমের স্ত্রী মাসেদা (৩০), মৃত সমসের শেখের পুত্র মতিন শেখ (৬৪), নূর আলমের সন্তান নুর মহল (৪) ও নুসরাত (৩ মাস)।
এলাকাবাসী ও থানা সূত্রে জানা গেছে, ধানসুরার দিকে যাওয়া একটি ভটভটি, দাশরাই থেকে আসা একটি ভ্যান ও গাংগোর দিক থেকে আসা একটি চার্জার ভ্যান সাবিলপুর-জিনারপুর মোড়ে একসঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভটভটি সজোরে ধাক্কা দেয় ভ্যান ও চার্জার ভ্যানকে। এতে ভ্যান ও চার্জার ভ্যানে থাকা যাত্রীরা গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর নুরেফাকে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বাকিদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার পর ভটভটির চালক পলাতক রয়েছে।
আহতদের দেখতে নওগাঁ-১ আসনের সাংসদ মো. মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুর্শিদা খাতুন ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেজাউল করিম হাসপাতালে ছুটে যান এবং তাদের খোঁজখবর নেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ফয়সাল নাহিদ পবিত্র বলেন, ‘‘গুরুতর আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’’
থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘‘দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ভটভটি ও ভ্যান থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।’’
কেকে/এসএ