ঈদ উল ফিতরের ছুটি কাটিয়ে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) থেকে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন ঢাকা থেকে গ্রামে যাওয়া সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীরা। আজও অনেকে ফিরছেন। তবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) থেকে আবার তিন দিনের ছুটি থাকায় অনেকে নতুন করে ঢাকা ছেড়ে যাচ্ছেন।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস এবং দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটির আগে আজ বুধবার ঢাকার রেলস্টেশনগুলোতে দেখা গেছে মিশ্র চিত্র। ঢাকায় ফেরার চাপ যেমন আছে তেমনি ঢাকা ছাড়ছেন—এমন মানুষের সংখ্যাও প্রচুর দেখা গেছে।
এদিকে, গেল দুই দিনের মতো আজ সকালেও ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সকালে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ট্রেনগুলোতে যাত্রীদের ভিড় তুলনামূলক কম।
ঈদ উল ফিতরের সাত দিনের ছুটি শেষে গতকাল মঙ্গলবার ও আজ অফিস-আদালত খোলা ছিল। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনের ছুটি। যারা ঈদের ছুটিতে বাড়ি যেতে পারেননি, তারা এই সুযোগে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে ঢাকা ছাড়ছেন। আবার গত সাত দিন গ্রামে কাটিয়ে ঢাকায় ফিরে মাত্র দুই দিন অফিস করেই অনেকে ফের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে অপেক্ষারত রংপুরের যাত্রী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘অফিসের জরুরি প্রয়োজনে গতকালই আমাকে ঢাকায় ফিরতে হয়েছিল। আজ সকালে কাজ শেষ করে দুপুর ১২টার ট্রেনে আবারও গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছি।’
আগামী শুক্রবার ছোট ভাইয়ের বিয়ে থাকায় তড়িঘড়ি করেই অফিসে হাজিরা দিয়ে বেরিয়ে পড়েছেন তিনি।
শুধু জাহাঙ্গীর আলমই নন, ঈদ উল ফিতরের দীর্ঘ ছুটি কাটিয়ে যারা কর্মস্থলে ফিরেছিলেন, তাদের অনেকেই তিন দিনের ছুটিতে ফের ঢাকা ছাড়ছেন।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আজ বিকাল থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনগুলোর অগ্রিম টিকিট অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। যাত্রীরা আগে থেকেই এই তিন দিনের ছুটির পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন। সকাল থেকে বিভিন্ন জেলা থেকে অন্তত ১০টি ট্রেন কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৩-৪টি বাদে সবগুলোরই শিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে। কোনো কোনো ট্রেন এক ঘণ্টারও বেশি বিলম্বে স্টেশনে পৌঁছানোয় বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা। ফলে সকাল ১০টায় যাদের অফিসে যোগ দেওয়ার কথা ছিল, তাদের কর্মস্থলে পৌঁছাতে বিলম্ব হয়েছে। স্টেশনে পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় কয়েকটি ট্রেন পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেতেও দেরি করেছে।
কেকে/এমএ