‘ধর্মমন্ত্রীর বাড়ির পাশে মন্দিরে আগুন’ শিরোনামে অপপ্রচার করার প্রতিবাদ জানিয়েছেন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকালে কুমিল্লা নগরীর একটি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে তারা এ প্রতিবাদ জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘মায়ের কাছে সন্তান যেমন নিরাপদ, মুরাদনগরের হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাও তেমনি ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের কাছে নিরাপদ। তিনি সাংসদ নির্বাচিত হয়েই মুরাদনগরের অস্বচ্ছল হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য ফান্ড গঠন করেন এবং নগদ ৫ লক্ষ টাকা দেন। মন্ত্রীর সাথে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সুসম্পর্ক নষ্ট করতে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। তারই অংশ হিসেবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে ধর্মমন্ত্রীকে জড়িয়ে মন্দিরে আগুনের অপপ্রচার করছে একটি মহল।’
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন পূজা উদযাপন ফ্রন্টের কুমিল্লা উত্তরের সভাপতি দুলাল দেবনাথ, মুরাদনগর উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি অধ্যাপক দীন দয়াল পাল, সাধারণ সম্পাদক দয়ানন্দ ঠাকুর, সহ-সভাপতি রতন দাস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিজন কুমার দাস
সংবাদ সম্মেলনে দুলাল দেবনাথ বলেন, ‘মুরাদনগরের ছয়বারের নির্বাচিত এমপি, ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের বাড়ির পাশে একটি মন্দির রয়েছে। মন্দিরের পাশে একটি বটবৃক্ষ আছে, যেখানে আমাদের ধর্মীয় রীতি অনুসারে মানত করা হয়। মানত শেষে কেউ কেউ সেখানে কাপড় পেঁচিয়ে যায়। মুরাদনগরের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রাণের আশ্রয়স্থল কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন দাদার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খারাপ করতে কিছু ফেসবুক পেজ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বটবৃক্ষের মাঝে আগুন ধরিয়ে সেটি নিয়ে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে।’
‘সেই সঙ্গে তারা মুরাদনগর থানা ও কায়কোবাদ দাদার ছবিসহ ভিডিও বানিয়ে হিন্দু ও মুসলিমদের মাঝে একটি ভীতির পরিবেশ তৈরি করতে চেয়েছে। আমি সেই মিথ্যা প্রচারণার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে সঠিক বিচারের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘কায়কোবাদ দাদা শুধু জনগণের নেতা নন, তিনি মুরাদনগরের হিন্দু-মুসলিম সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অভিভাবক। গত ২৫ বছর আমরা তার ছায়াতলে ছিলাম। এছাড়াও গত ১৮-২০ মাস তিনি আমাদের হিন্দুদের যেভাবে আশ্রয় দিয়ে রেখেছেন, আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বসবাস করেছি। বিগত অনেক বছর ধরে কায়কোবাদ দাদাকে হেয় করার অনেক পরিকল্পনা স্বৈরাচার বাহিনী করেছে, কিন্তু তারা কখনোই সফল হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না।’
‘দিন দয়াপাল বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের আগে ও পরে এতটাই ভালো ও শান্তিতে আছি যে, আমাদের এই সুখ স্বৈরাচারদের সহ্য হচ্ছে না। আমরা হিন্দু-মুসলিম যেভাবে মিলেমিশে চলছি, মিলেমিশে ধর্মীয় কাজগুলো সম্পাদন করছি- এসব তাদের সহ্য হচ্ছে না। আমার বাড়ির পাশেই ঘটনাটি ঘটেছে, মাত্র ১০০ গজ দূরেই মন্দিরের পাশে একটি বটগাছ। এখানে কোনো প্রতিমা স্থাপন করে পূজা করা হয় না। আমরা বিভিন্ন ধরনের মানত করি, কেউ কেউ কাপড় বেঁধে দেয়। সেখানে রাতের আধারে কে বা কারা আগুন ধরিয়ে সেটি আবার ভিডিও করে অনলাইনে কিছু ফেসবুক পেজের মাধ্যমে মুরাদনগরের মাটি ও মানুষের নেতা, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন দাদাকে জড়িয়ে প্রচার করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখানে কিছু নেশাখোর রাতে নেশা করে, হয়তো তারা আগুন দিয়েছে অথবা যারা ভিডিও করেছে, তারাই আগুন লাগিয়ে মুরাদনগরের শান্তি বিনষ্ট করার চেষ্টা করেছে। যারা অতীতে দাদার বিরুদ্ধে লেগে ছিল, তারাই এখন এসব করছে। আমি তাদের বলতে চাই, মুরাদনগরের মানুষের সুখ যদি সহ্য না হয়, তাহলে চুপ থাকুন, দেশটাকে সুন্দরভাবে চলতে দিন। আমরা হিন্দু-মুসলিম যেভাবে অধিকার নিয়ে বেঁচে আছি, সেভাবেই থাকতে দিন।’
দয়ানন্দ ঠাকুর বলেন, ‘মন্দিরের পাশের বটবৃক্ষে আগুন দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চালানো হচ্ছে, আমরা তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা, যার মাধ্যমে মুরাদনগরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, মুরাদনগরে হিন্দু-মুসলিম দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে বসবাস করতে চাই। একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাই, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। পাশাপাশি সকলকে গুজবে কান না দিয়ে মুরাদনগরের শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।’
কেকে/এমএ