সপ্তাহের সর্বোত্তম দিন হলো জুমুআর দিন। সপ্তাহের অন্যান্য দিনগুলোতে মানুষ মসজিদে না এলেও শুক্রবারে সবাই মসজিদে আসে জুমুআর নামাজ পড়তে এবং নামাজের পাশাপাশি খতিব সাহেবের বয়ান শুনতে। অনেকে সমাজের প্রচলিত কোনো ওয়াজ-মাহফিলে না গিয়ে থাকলেও জুমুআর দিন খতিব সাহেবের বয়ান শোনার জন্য আগেভাগে মসজিদে চলে আসে। কিন্তু তারা আশা নিয়ে এলেও যখন দেখে খতিব সাহেবের বয়ান মানসম্মত ও সময়োপযোগী নয়, তখন তারা হতাশ হয়।
জুমুআর দিন মসজিদে আলোচনা বা বয়ান করতে হয় বড়জোর আধা ঘণ্টা বা ৪৫ মিনিট। কিন্তু এই অল্প সময়ের আলোচনাটাও যদি খতিব সাহেব সংক্ষিপ্তাকারে বিষয়ভিত্তিক না করেন, তাহলে সাধারণ মুসল্লিরা আর কোথায় কার কাছে গিয়ে দ্বীনি আলোচনা শ্রবণ করবে? খতিব সাহেব আলোচনার শুরুতে কুরআনুল কারিম থেকে যে আয়াত তিলাওয়াত এবং যে হাদিসটি পাঠ করেন, কেবল সেই আয়াত ও হাদিসের শানে নুযূল, তাফসির, প্রেক্ষাপট, আয়াত নাজিল হওয়ার আগে ও পরের অবস্থা, সাহাবায়ে কেরামের মধ্যকার পরিবর্তন, আয়াতের বর্তমান প্রেক্ষাপট এবং আয়াত থেকে উদ্ঘাটিত মাসয়ালা ও ফজিলত সম্পর্কে সংক্ষিপ্তাকারে বর্ণনা করলে মুসল্লিরা উপকৃত হতে পারে।
কিন্তু অনেক মসজিদের খতিব সাহেব তিলাওয়াতকৃত আয়াত ও হাদিসের বিষয়ভিত্তিক আলোচনা না করে মনগড়া কথাবার্তা বলে বয়ানের মূল্যবান সময় পার করে দেন। এতে করে মসজিদের যুব ও শিক্ষিত শ্রেণির মুসল্লিরা বিভ্রান্তিতে পড়ে যান। বয়ানের মধ্যে একবার উত্তর মেরু থেকে এক কথা বলেন, আরেকবার দক্ষিণ মেরু থেকে অন্য কথা! খতিব সাহেব ‘ঠিক’ বলতে বললে মুসল্লিরা ‘ঠিক’ বলে, তিনি ‘বেঠিক’ বলতে বললে মুসল্লিরাও ‘বেঠিক’ বলে! অবস্থা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, খতিব সাহেব জানেন না তিনি কী বলছেন আর মুসল্লিরাও জানে না তারা কী শুনছে।
কুরআনুল কারিমের মধ্যে মানবজীবনের বিভিন্ন বিধিবিধান সংবলিত পাঁচশত আয়াত রয়েছে। চাইলে খতিব সাহেবরা প্রতি জুমুআয় একটি আয়াতের তাফসির করতে পারেন। এতে করে সাধারণ মুসল্লিরা দ্বীন সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতে পারবে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না।
আসল সমস্যা হলো পড়াশোনার অভাব। নিয়মিত কুরআন-হাদিস চর্চা ও অধ্যয়ন করা হয় না বিধায় অনেক খতিব সাহেব এক ডাল থেকে অন্য ডালে গিয়ে আলোচনা শেষ করেন। জুমুআর আলোচ্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করার আগে যদি সেই বিষয়ের ওপর 'মোতালাআ' তথা গভীর অধ্যয়ন করা না হয়, তাহলে মুসল্লিদের সামনে যথাযথ আলোচনা উপস্থাপন করা সম্ভব নয়। সমাজের মানুষকে কুরআন-হাদিস বুঝিয়ে দ্বীনের পথে আনতে হলে বিষয়ভিত্তিক বয়ানের কোনো বিকল্প নেই। আর এর জন্য খতিব সাহেবদের নিয়মিত পড়াশোনা করা অপরিহার্য।
তাই, একজন সাধারণ মুসল্লি হিসেবে জুমুআর দিন খতিব সাহেবদের প্রতি কুরআন ও হাদিস থেকে তথ্যনির্ভর, বিষয়ভিত্তিক এবং সময়োপযোগী বয়ান করার সবিনয় অনুরোধ জানাই।
লেখক : শিক্ষার্থী, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
কেকে/এসএ