চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণার পর তার পরিবার, সহপাঠী ও সমর্থকরা তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এ মামলার রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রায়ের জন্য উৎকণ্ঠা নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন, মা মনোয়ারা বেগম ও পরিবারের অন্য সদস্যরা। দুপুরে রায় ঘোষণা হলে তারা কবরের পাশে এসে দাঁড়ান। সাথে ছিলেন হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী ও চাচাতো ভাই রুহুল আমিন। কিছুক্ষণ চুপচাপ কবরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকার পর তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করেন।
মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘‘আমার ছেলের জীবন দিয়ে তো কিছুই হয়নি। এই বিচারে শান্তি মেলেনি। আমার ছেলের আত্মাও শান্তি পাবে না। দুনিয়ায় সঠিক বিচার হয়নি। রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তবে মূল হত্যাকারী পোমেল বড়ুয়ার মতো শিক্ষার্থী-নেতাদের ফাঁসি হয়নি। তাকে মাত্র দশ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অনেক আসামি এখনো পলাতক। এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। সরকার ও রাষ্ট্রপক্ষের সাহায্য নিয়ে আমরা আপিল করব।’’
মকবুল হোসেন বলেন, ‘‘যেসব আসামি আদালতের আদেশে ছেলের হত্যার জন্য দায়ী, তারা পালিয়ে গেছে। শুধু দুই কনস্টেবলকে ফাঁসির দণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। আরও অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এ হত্যাকাণ্ডের ইন্ধনদাতা ছিলেন। তাদেরকেও দোষী সাব্যস্ত করতে হবে।’’
হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী ও চাচাতো ভাই রুহুল আমিন বলেন, ‘‘যাদের আদেশে ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে, তারা বেঁচে গেছে। এদেরকে যথাযথ দণ্ড দেওয়া হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে আপিল করা হবে। আশা করি রায় রিভিউ করে শাস্তি বাড়ানো সম্ভব হবে।"
শহীদ আবু সাঈদের সহপাঠী ও আন্দোলন সমন্বয়ক শামসুর রহমান সুমন বলেন, ‘‘দীর্ঘ সময় পর রায় দিলেও তা আমাদের প্রত্যাশা পূরণ করেনি। অভিযুক্তদের দায়মুক্তি যেন না হয় তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপক্ষকে রায় রিভিউয়ের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’’
জাতীয় যুব শক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘‘এই রায়ের মাধ্যমে প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়নি। আমরা আশা করি সরকার দ্রুত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে এবং রায় রিভিউ করবে।’’
অপরদিকে, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডক্টর এম শওকত আলী বলেন, ‘‘দীর্ঘ সময় পর হলেও রায় দেওয়া হয়েছে, যা আমরা সন্তোষজনক মনে করি। তবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পরিবারের ও রাষ্ট্রপক্ষের সাথে সমন্বয় করে আপিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’’
এভাবে শহীদ আবু সাঈদ হত্যার রায় ঘিরে পরিবার ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষের ছাপ স্পষ্টভাবে দেখা গেছে।
তারা মূল দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করতে আপিলের পথ অনুসরণ করবেন বলে জানিয়েছেন।
কেকে/এসএ