যুদ্ধবিরতি নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও লেবাননে ইসরাইলের বোমাবর্ষণ থামেনি। শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতভর ও রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে ইসরাইলের সেনাদের একাধিক হামলায় দেশটিতে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
দক্ষিণ লেবাননের টায়ার জেলার মারুব শহরে ইসরাইলের হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন।
দক্ষিণের শহর কানায় আরেক হামলায় পাঁচজন লেবানিজ নিহত হয়েছেন। আল-বাজুরিয়েহ, কালিলা, বাফলিয়েহ ও ক্লাউইয়া শহরেও ইসরাইল হামলা করেছে।
লেবাননের একটি সূত্র জানিয়েছে, তেফাহতা শহরে শনিবার রাতভর ইসরাইলের হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে ইসরাইলের সেনাদের ওপর ড্রোন হামলার দাবি করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি জানায়, উত্তরাঞ্চলীয় অবৈধ ইসরাইলের বসতি ইর’ওনে সেনাদের ওপর তারা ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘নিজেদের দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে ইসরাইল-মার্কিন আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকবে।
পাঁচ সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ২ সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। চুক্তিতে লেবাননের কথা থাকলেও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পাকিস্তানের তা প্রত্যাখ্যান করেন। সেই সঙ্গে হুঙ্কার দিয়ে বলেন, ‘হামলা চলবে।’
এরপর বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোর থেকে লেবাননের রাজধানী বৈরুতসহ বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ হামলা চালায় ইসরাইলের বাহিনী। ইসরাইল জানায়, মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে ১০০-রও বেশি স্থানে হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় তিন শতাধিক বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও সহস্রাধিক আহত হন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ২১ ঘণ্টার শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। আলোচনার ব্যর্থ হওয়ার জন্য একে অপরকে দোষারোপ করেছে তেহরান ও ওয়াশিংটন। ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় লেবানন বিষয়টিও বিষয়টি উঠে এসেছিল। তবে সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়ায় দেশটিতে ইসরাইলের হামলা জোরদার হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র : এনএনএ, আল জাজিরা
কেকে/এমএ