পরিবর্তনশীল পরিবেশে বাড়তে থাকা ঝুঁকির কারণে বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা এখনো চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। সারা দেশে গণমাধ্যমকর্মী, মানবাধিকারকর্মী, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিককর্মী এবং নারীরা জনসমক্ষে নির্যাতন, হুমকি, হয়রানি ও শারীরিক হামলার শিকার হচ্ছেন—পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চার ওপর হুমকি বাড়ছে যা মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সীমিত করে দিচ্ছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) এই পরিস্থিতি মোকাবিলায়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা জোরদার করার লক্ষ্যে ঢাকায় ‘ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন টাস্কফোর্সের’ সদস্যদের সঙ্গে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রগ্রেসিভ কমিউনিকেশন্স (এপিসি)’র সহায়তায় বেসরকারি অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান ‘ভয়েস’ এই কর্মশালার আয়োজন করে।
আলোচনায় সদস্যরা সকল অংশীজনের সমন্বয়ের ওপর জোর দেন এবং নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতির বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
ভয়েসের উপপরিচালক মুশাররাত মাহেরা বলেন, “নির্বাচনের পরও গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন ও অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা, পাশাপাশি লিঙ্গবৈচিত্র্যসম্পন্ন মানুষ ও আদিবাসীদের ওপর সহিংসতার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। আইনের কার্যকর প্রয়োগের ঘাটতির কারণেই এসব ঘটছে। তাই নতুন সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, শক্তিশালী আইনি কাঠামো ও কার্যকর বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করা জনকল্যাণমূলক নীতি প্রতিষ্ঠা হয়।”
সভায় ভয়েসের প্রোগ্রাম অফিসার প্রিয়তা ত্রিপুরা মার্চ থেকে বর্তমান পর্যন্ত মিডিয়া মনিটরিংয়ের তথ্য তুলে ধরে বলেন, “মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত না হলে মানবাধিকারের পূর্ণ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই মুক্ত গণমাধ্যম নিশ্চিত করার পাশাপাশি মুক্ত সাংস্কৃতিক প্রকাশের পরিসর বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক সুলতান মাহমুদ, ইসমাঈল হোসেন, অধিকারকর্মী ডালিয়া চাকমা, সারাবান তহুরা, আরিফুল হাসান, উন্নয়ন পরামর্শক মনজুর রশীদ ও প্রমুখ।
অংশগ্রহণকারীরা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা লঙ্ঘন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তার প্রতি হুমকি, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সহিংসতা, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ, এবং অনলাইন মতপ্রকাশে অপরাধীকরণ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সদস্যরা সকলেই অধিকার আদায়ের জন্যে সক্রিয় থাকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
কেকে/এজে