তীব্র লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন চান্দিনা উপজেলার বাসিন্দারা। দিনে-রাতে বারবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে চলমান এসএসসি পরীক্ষা ও দাখিল পরীক্ষার পরীক্ষার্থীরা। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলার মহিচাইল, মাইজখার, বাড়েরা, বাতাঘাসি, এতবারপুর ইউনিয়ন এবং পৌরসভার কয়েকটি ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, দিনে গড়ে ৫–৭ বার বিদ্যুৎ যাচ্ছে। সন্ধ্যার পর লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও বেড়ে যায়, যা পরীক্ষার্থীদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় বিদ্যুৎচালিত সেচপাম্প বন্ধ থাকে—ফলে বিভিন্ন ফসল হুমকির মুখে পড়ছে।
চান্দিনা পৌর এলাকার দাখিল পরীক্ষার্থী সামরিন আক্তার মুন্নি বলেন, ‘সারাদিন গরমে ক্লান্ত থাকার পর সন্ধ্যায় পড়তে বসি। কিন্তু বিদ্যুৎ চলে গেলে মোবাইল বা চার্জার লাইটের আলোতে পড়তে হয়। এতে মনোযোগ নষ্ট হয়, গরমে পড়া কষ্টকর হয়ে যায়।’
মাইজখার এলাকার এসএসসি পরীক্ষার্থী ফরহাদ আহমেদ জানায়, ‘বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে পড়াশোনা করা খুব কষ্টকর হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে এই সমস্যা আরও বেশি।’
অভিভাবকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে বিদ্যুৎ বিভাগের এমন অব্যবস্থাপনা মেনে নেওয়া যায় না। তারা দ্রুত লোডশেডিং কমিয়ে পরীক্ষার্থীদের জন্য নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানান।
চান্দিনা প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি আব্দুর রহমান সরকার বলেন, ‘চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। অতিরিক্ত লোডশেডিং ও অকটেনচালিত জেনারেটরের জ্বালানি সংকটে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।’
চান্দিনা মহারং এলাকার বাসিন্দা প্রিয়াংকা সরকার বলেন, ‘দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। গরমে বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে, পড়াশোনারও ক্ষতি হচ্ছে।’
এ বিষয়ে কুমিল্লা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী রাশেদুজ্জামান বলেন, ‘সারাদেশে চলমান লোডশেডিংয়ের মতো এখানেও প্রভাব পড়েছে। পিক আওয়ারে আমাদের চাহিদা ১৮১ মেগাওয়াট, সেখানে প্রায় ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ পাচ্ছি। কুটুম্বপুর সামিট পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে ২০ মেগাওয়াট যুক্ত হওয়ায় তুলনামূলকভাবে কিছুটা স্বস্তি আছে। আশা করছি শিগগিরই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’
কেকে/ এমএস