সারাদেশে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক শব্দসচেতনতা দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর বাস্তবায়নাধীন ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’-এর উদ্যোগে দেশের ৬৪ জেলায় আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা এবং একযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) ঢাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অডিটোরিয়ামে দিবসটি উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
আলোচনা সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, শব্দদূষণ অদৃশ্য হলেও এর প্রভাব অত্যন্ত ক্ষতিকর। মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে শব্দদূষণ রোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে পারলে তা কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিবের রুটিন দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. নুরুন নাহার, বিআরটিএ চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মীর আহমেদ তারিকুল ওমর, অতিরিক্ত সচিব ড. মো. সাইদুর রহমান, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট, ক্যাম্পেইন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি শব্দদূষণমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।’
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০২৫’ কার্যকর হওয়ার পর থেকে ট্রাফিক পুলিশ ১৭ হাজার মামলা দায়ের এবং প্রায় ২ কোটি টাকা জরিমানা আদায় করেছে।
সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ বলেন, ‘শব্দদূষণ একটি মনুষ্যসৃষ্ট দূষণ, যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এর ফলে শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্তসহ নানা স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিচ্ছে।’
বক্তারা শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও আইনের যথাযথ প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে সরকারের পাশাপাশি জনগণকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।
দিবসটি উপলক্ষে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ফুটওভার ব্রিজে ব্যানার ও বিভিন্ন স্থানে ফেস্টুন টানানো হয়। এছাড়া জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়েছে সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন।
কেকে/ এমএস