ওমরাহ হজ এজেন্সির প্রতারণার শিকার ওমরাহ যাত্রীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ নেওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, দোষী এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও হজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কতিপয় সুপারিশ পেশ করেছেন ভুক্তভোগী ওমরাহ যাত্রীরা।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান তারা। এতে লিখিত বক্তব্য পেশ করেন প্রতারণার শিকার ওমরাহ যাত্রীদের পক্ষে অ্যাডভোকেট একরামুল কবীর রোমেল।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আমরা ৫৫ জনের একটি ওমরাহ যাত্রী দল ‘মাস্ক হজ্জ গ্রুপ’র মাধ্যমে পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য গিয়েছিলাম। কিন্তু শুরু থেকেই আমরা নানা বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্যের সম্মুখীন হয়েছি, যা পরবর্তীতে বড় ধরনের প্রতারণায় রূপ নেয়। আমাদের প্রথমে জানানো হয়েছিল আমরা সৌদি এয়ারলাইন্সে ভ্রমণ করব। কিন্তু বাস্তবে আমাদের পাঠানো হয় ভিন্ন একটি এয়ারলাইন্সে। রিটার্ন টিকিটের বিষয়ে বারবার জানতে চাইলেও, সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধের আগে কোনো টিকিট দেখানো হয়নি। পরে টাকা নেওয়ার পর যে টিকিট দেওয়া হয়, তা দেশে ফেরার সময় (ফেক) বলে প্রমাণিত হয়।
নির্ধারিত তারিখের পরিবর্তে আমাদের হঠাৎ করেই গত রোজার ঈদের দিন যাত্রা করতে বাধ্য করা হয়। সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর শুরু হয় চরম দুর্ভোগ। হোটেল ও খাবার ব্যবস্থাপনাও ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের।
উদ্বেগজনক বিষয় হলো—আমাদের রিটার্ন টিকিট, যা ২ এপ্রিলের বলে জানানো হয়েছিল, সেটিও সম্পূর্ণ ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়। ফলে আমরা ৫৫ জন যাত্রী তখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাই। আমাদের মধ্যে অনেকেই ছিল বয়স্ক নারী, পুরুষ ও শিশু।
এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে আমরা ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করি। আমরা তখন জানতে পারি, তিনি সৌদি আরবে স্থান করছেন। বিষয়টি মন্ত্রী অবগত হওয়ার পর দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করেন, আমাদের খাবার-দাবার এবং দেশে ফিরে আসার ব্যবস্থা করেন।
সরকার ও ধর্ম মন্ত্রণালয়য়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি সরকার এবং ধর্মমন্ত্রীর এ আন্তরিক সহযোগিতার জন্য। একইসঙ্গে আমরা দোষী মাস্ক হজ গ্রুপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
ওমরাহ হজ ব্যবস্থাপনা আরও গোছালো ও সুন্দর করতে সরকারের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংবাদ সম্মেলনে নিম্নলিখিত দাবিগুলো তুলে ধরা হয়—
১। ওমরাহ যাওয়ার ব্যবস্থাপনাকে যথাসম্ভব ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং ব্যবস্থা করা।
২। বিদেশে যাওয়ার আগে যাত্রীদের রিটার্ন টিকিট বাধ্যতামূলকভাবে যাচাই করা হোক।
৩। ইমিগ্রেশন পর্যায়ে ভিসা ও টিকিট পুনরায় যাচাই নিশ্চিত করা হোক।
৪। প্রতারণাকারী যে কোনো এজেন্সির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
৫। ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণা রোধে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
৬। একটি কেন্দ্রীয় অনলাইন পোর্টাল চালু করা হোক, যেখানে যাত্রীরা নিজেরাই ফ্লাইট, হোটেল ও প্যাকেজসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করতে পারবেন।
কেকে/এজে