ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও জার্মান চ্যান্সেলরের পাল্টাপাল্টি মন্তব্যে উত্তপ্ত হয়েছে দুই দেশের রাজনীতি। শুধু তাই নয়, জার্মানির বিভিন্ন ঘাঁটিতে দায়িত্বরত মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহার করে অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেয়ার হুমকিও দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্জ সম্প্রতি বলেছেন, ‘ইরানে যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ভুল এবং অপরিকল্পিত কৌশলের জন্য এই যুদ্ধের ইতি টানা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কঠিন হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অহেতুক যুদ্ধের দায় এড়াতে পারেন না।’
তবে জার্মান চ্যান্সেলরের এমন সব মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা মন্তব্যে উত্তাপ বেড়েছে দুই দেশের রাজনৈতিক মহলে।
পাল্টা মন্তব্যে ট্রাম্প মের্জের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে বলেন, ‘জার্মান চ্যান্সেলরের উচিত রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে আরও বেশি উদ্যোগী হওয়া, কারণ এই যুদ্ধে মের্জ ‘সম্পূর্ণ অকার্যকর’ ভূমিকা রেখেছেন।’
এছাড়াও ট্রাম্প তিরস্কার করে বলেন, ‘চ্যান্সেলরকে তার ‘ভাঙাচোরা দেশ’ জার্মানিকে মেরামত করতে হবে।’
বিশেষ করে অভিবাসন ও জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে তিনি পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
মের্জ অভিযোগের সুরে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাস্তবতা পরিপন্থি কাজ করেছেন। তেহরানের শাসনব্যবস্থাকে পারমাণবিক অস্ত্র পাওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন।’
তবে চ্যান্সেলর বারবার উল্লেখ করেন, ইরান যেন এই অস্ত্রের মালিকানা না পায়।
জার্মান চ্যান্সেলর আরও বলেন, ‘তেহরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করার কোনো কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের নেই।’
এদিকে, জার্মানি থেকে মার্কিন সৈন্যদের প্রত্যাহারের ট্রাম্পের হুমকিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ রাজনৈতিক নেতারা। তবে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) চ্যান্সেলর মের্জসহ জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়েডফুল বলেন, ‘সামরিক জোট ন্যাটোকে আরও শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে যেতে জার্মানি সবসময়ই অগ্রণী ভূমিকা রাখবে
কেকে/এমএ